ফেনীতে ৩ বছরেও উদ্ধার হয়নি স্কুল ছাত্রী জেমি

ফেনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর ছাত্রী নুসরাত জাহান জেমি (১৫) অপহরনের ৩ বছরেও তার খোঁজ মিলেনি। ২০১০ সালের ২১ সেপ্টেম্বর স্কুলে যাওয়ার পথে সে নিখোঁজ হয়। আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ প্রশাসন কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় জেমির পরিবার ও সহপাঠিদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এ ব্যাপারে জেমির পিতা অজ্ঞাতনামা আসামী করে ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ৬৭, তারিখ : ৩০.০৯.২০১৩ইং। তৎকালীন এস আই মো: দেলোয়ার হোসেন মামলাটি তদন্ত করে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চাঁদপুর জেলার আবদুল লতিফ প্রধানের ছেলে রাসেল আহম্মদ (২৫) নামে এক যুবককে আটক করে। সে ফেনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে ফেনী ভ্যাকসিন সেন্টারে কর্মরত। তার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ ভ্যাকসিন সেন্টারে কর্মরত লিপি বেগমকে (৩০) আটক করে। পরে পুলিশ আটককৃতদেরকে অপহরণ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করে।

পরবর্তীতে আসামীরা হাইকোর্ট থেকে জামিনে বেরিয়ে আসে। গত ২০১০ সালের ২ অক্টোবর এ ব্যাপারে দৈনিক ফেনীর সময় সহ বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। জেমির পিতা আবুল কাশেম জানান, লিপি ও রাসেল আহম্মদ জেমির সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে তাদের বাসায়ও কয়েকবার গিয়েছিল। এবং ঘটনার কয়েকদিন আগে লিপি জেমিকে ঈদকার্ড দেয়ার জন্য তাদের বাসায় যায়। অসম বয়সের একজন মহিলার সাথে সখ্যতা গড়ে তোলায় লিপিকে জিজ্ঞাসাকালে লিপি জেমির পিতাকে বলে বয়সে মেয়ের মত হলেও তাকে আদর লাগে তাই তার সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছে। এ ব্যাপারে জেমিকেও তার পিতা-মাতা শাসন করেছিল।

ঠিক এ ঘটনার পরেই ঈদের পরে স্কুলে যাওয়ার সময় জেমিকে অপহরণ করা হয়। তৎকালীন পুলিশ সুপার মো: ইমাম হোসেনও ঘটনার ব্যাপারে অভিযুক্তদের লিপিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী) সাহারা খাতুনও লিপি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ফেনীর পুলিশ সুপারকে লিখিত নির্দেশ দিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে মামলা চললেও মেয়েকে উদ্ধারে অগ্রগতি না দেখে জেমির পরিবার হতাশ হয়ে পড়েছে। মামলাটি বর্তমানে ফেনী জুড়িশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।