চকরিয়ায় অব্যাহত বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত: পানিবন্দী লক্ষাধিক মানুষ

# ডুবে গেছে মজিদিয়া দাখিল মাদরাসা
# দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত প্রশাসন
# তলিয়ে গেছে ফসলি জমি
# বিপর্যস্থ জনজীবন
# বাড়ছে দুর্ভোগ

চকরিয়ায় ২/৩ দিনের অব্যাহত ভারী বর্ষণে  নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ। বিপদ সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে প্রমত্তা মাতামুহুরী নদীর পানি। তলিয়ে গেছে ফসলি জমিসহ বিস্তির্ণ  নিম্নাঞ্চল। আশংকা রয়েছে বন্যা হবার। প্রশাসন প্রস্তুত দুর্যোগ মোকাবিলায়। বিপর্যস্থ জনজীবনে বাড়ছে দুর্ভোগ। হুমকির মুখে পড়েছে বাস টার্মিনাল পয়েন্টস্থ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক। সরেজমিন ও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার থেকে গতকাল শনিবার অঝোর ধারায় বিরতীহীনভাবে বৃষ্টিপাতে পাহাড়ী ঢলের সৃষ্ট প্লাবনে চকরিয়া উপজেলার ১৮ ইউনিয়নের বিস্তির্ণ নি¤œাঞ্চল কয়েকফুট পানির নিচে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। গ্রামীণ সড়ক, রোপা ধানসহ ফসলি জমি তলিয়ে গেছে কোমর পানিতে। মানবিক বিপর্যয়ের পরিবেশ দেখা না দিলেও পানিবন্দী হয়ে পড়েছে উপজেলার অন্তত লক্ষাধিক মানুষ। অতি বর্ষণে পৌর শহরে ব্যাহত হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত। বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হচ্ছে বিশালাকৃতির পানিবদ্ধতার। থানা সেন্টার এলাকা হয়ে পড়েছে পানিমগ্ন। অবিরত বৃষ্টিতে বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে জনজীবন। নেমে এসেছে দুর্ভোগ। দেখা দিয়েছে নানা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার। বিভিন্নস্থানে সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির সংবাদ আসেনি এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত। এদিকে হারবাং ইউপি চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর জানান, টানা বৃষ্টিতে এ পর্যন্ত এলাকার পরিস্থিতি অনুকূলে আছে। বর্ষণ অব্যাহত থাকলে বিশেষ করে ইউনিয়নের রাখাইনপাড়া আগে তলিয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। সেই সাথে বিস্তির্ণ নি¤œাঞ্চলও ব্যাপক পানিতে প্লাবিত হওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে। তাছাড়া গত বছর প্রবল বর্ষণের সময় পাহাড় ধসে মর্মান্তিকভাবে ২জন নিহতের ঘটনার উদ্বৃতি দিয়ে বলেন, পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনা এড়াতে পাহাড়ি এলাকা থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে দফায় দফায় মাইকিং করে যাচ্ছেন। খুটাখালী ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুর রহমান প্রবল বর্ষণ হওয়ার সতত্যা নিশ্চিত করে জানান, আমার ইউনিয়নের বিস্তির্ণ নি¤œাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। পাহাড়ি ঢলে পানির তোড়ে খুটাখালীর ফরেষ্ট অফিসপাড়া ও জয়নগরপাড়া প্লাবিত হয়েছে। পাগলিরবিলের একাংশ এলাকাও পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। তাছাড়া, ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড পূর্বপাড়ায় কাবিখা প্রকল্পে নির্মাণাধীন বাঁধ ভেঙ্গে ল-ভ- হয়ে গেছে। কোনাখালী ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার তার এলাকায় আল্লাহর রহমতে কিছু হয়নি দাবি করে বলেন, নি¤œাঞ্চলে কিছুটা ঝুঁকি থাকলেও ইউনিয়ন পরিষদ দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত। বন্যা কিংবা প্লাবন এখনও গ্রাস করতে পারেনি কোনাখালী ইউনিয়নকে। তবে বর্ষণ অব্যাহত থাকায় মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াতে কম-বেশি বিঘœ ঘটে চলছে বলে তিনি জানান। উপজেলার প্রভাবশালী ছাত্রলীগ নেতা ও তরুণ সমাজ সেবক এম.এ আরিফুল ইসলাম চৌধুরী আরিফ জানান, ব্যাপক বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বিগত বছর বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি হলেও এবার বন্যা তো দুরের কথা আমার এলাকায় এখনও পর্যন্ত আল্লাহর রহমতে কোন ধরনের অঘটনের খবর নেই। সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে দাবি করে তিনি এলাকাবাসীর খোঁজ খবর নেয়ার কথা জানিয়েছেন এ প্রতিবেদককে। পৌরসভা প্যানেল মেয়র ও সাবেক ছাত্রনেতা শহিদুল ইসলাম ফোরকান বি.এ (অনার্স) এম.এ জানান, পৌর শহরের রক্ষাবাঁধ ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তিনি বিস্ময় হয়ে বলেন, ১৭লাখ টাকা ব্যায়ে নির্মিত গত বছর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ওয়াপদা বেড়িবাঁধটি ১৭দিনও অতিবাহিত হয়নি। বেড়িবাঁধটি ফের বিধ্বস্ত হয়েছে ক’দিনের বর্ষণে। পানিতে তলিয়ে গেছে পৌরসভার অন্যতম দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মজিদিয়া দারুচ্ছুন্নাহ পৌর দাখিল মাদরাসা। সংলগ্ন ঘরবাড়িও পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে অব্যাহত বর্ষণে পাহাড়ি ঢলের সৃষ্ট জোয়ারের পানিতে আঘাত হেনে যে কোন মুহুর্তে বাস টার্মিনাল পয়েন্টস্থ এলাকা বিধ্বস্ত হয়ে চট্টগ্রামের সাথে পর্যটন শহর কক্সবাজার অচল হয়ে পড়ার আশংকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। এতে এলাকার মানুষের অপূরনীয় ক্ষতিসহ চরম মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে তিনি দাবি করেন। অন্যদিকে সর্বোচ্চ পর্যবেক্ষণ ও সার্বক্ষণিক তদারকি করে যাচ্ছেন উপজেলা প্রশাসন। মানবিক বিপর্যয় রোধে যে কোন দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে প্রশাসন এমনটি জানালেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জয়নাল আবদিন। তিনি আরো জানান, ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে যারা বসবাস করছেন তাদেরকে সরে গিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে আসতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছে। মৎস্য বিভাগের উদ্বৃতি দিয়ে তিনি জানান, বিশেষ করে চিংড়ি জোনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে স্লুইচ গেইট নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় চেয়ারম্যানগণ নিরলস দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। সর্বোপরী সব ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে উপজেলা প্রশাসন নানা উদ্যোগ হাতে নিয়েছেন বলে তিনি জানান।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।