জাতীয় সংসদে অর্থ বিল ২০১৩ পাস, বিরোধী দলের ওয়াকআউট

জাতীয় সংসদে বেশ কিছু সংশোধনীসহ অর্থমন্ত্রী উপস্থাপিত অর্থবিল-২০১৩ পাস হয়েছে। জাতীয় সংসদে শনিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে কণ্ঠভোটে অর্থ বিল-২০১৩ পাস হয়।
বিরোধী দল এ বিলটি জনমত যাচাইয়ের জন্য পাঠানোর দাবি জানিয়ে ওয়াকআউট করে। তার আগে বিলটির ওপর ছাটাই প্রস্তাব এনে বক্তব্য রাখেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, জামায়াতে ইসলামীর আ ন ম শামসুল ইসলামসহ ১৮জন সদস্য। তাদের প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।

পাসকৃত বিলে জমি কেনার ক্ষেত্রে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়ার প্রস্তাব বাতিল করা হয়েছে।

শনিবার ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের ওপর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সমাপনী বক্তব্যে বলেন, জমি কেনার ক্ষেত্রে অপ্রদর্শিত আয় ১০ শতাংশ আয়কর পরিশোধ সাপেক্ষে বিনোয়োগ বিবেচনা করার প্রস্তাব করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, এ খাতে প্রস্তাবিত সুবিধা দেয়া হলে অনুৎপাদনশীল খাতে অযথা খরচ হবে এবং জমির দাম বাড়বে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অপ্রদর্শিত আয় বিনোয়োগকে নিরুৎসাহিত করার লক্ষ্যে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবটি বাতিল করা যেতে পারে বলে মত দিয়েছেন, আমি এ প্রস্তাবটি বাদ দিচ্ছি।’

এছাড়া নিউজপ্রিন্ট আমদানির ওপর নিয়মিত শুল্ক ১০ শতাংশ আরোপ করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এই শুল্ক ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছিল।

এছাড়া অর্থ বিল ২০১৩- তে কালো টাকা সাদা করার বিধান রয়েছে। বেশকিছু পণ্যের উপর শুল্ক বৃদ্ধি পেয়েছে আর কিছু সংখ্যক পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক কমানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুরোধে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেটে একগুচ্ছ কর প্রস্তাব প্রত্যাহার করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিল পাসের আগে সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্লাস্টিক পণ্য, ওষুধ শিল্প, নিউজপ্রিন্ট, অগ্নিনির্বাপক সামগ্রী, গার্মেন্টস ও চা শিল্পের কর কমানোর অনুরোধ করেন।

তীব্র সমালোচনার মুখে প্লট, ফ্ল্যাট ও জমি কেনায় কালো টাকা সাদা করার প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নিয়েছে সরকার। এর পরিবর্তে তা নির্দিষ্ট পরিমাণ জরিমানা দিয়ে শিল্প খাতে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হয়েছে।

গত ৬ জুন ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার পর ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট মহলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। ব্যক্তিশ্রেণীর করমুক্ত আয়সীমা দুই লাখ থেকে বাড়িয়ে দুই লাখ ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব বহাল রাখা হয়েছে।

এছাড়া সংবাদপত্র শিল্পে ব্যবহৃত আমদানি করা নিউজপ্রিন্টের ওপর প্রস্তাবিত শুল্কহার কমানো হয়েছে। প্র্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ অনুরোধে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এসব সংশোধনী আনার সুপারিশ করেন।

এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া উপস্থিত ছিলেন। সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে অর্থমন্ত্রীর প্রতি সমর্থন দেন।

অর্থবিলে বিড়ির ওপর বর্ধিত শুল্ক কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে খুচরো বিক্রেতাদের ওপর আরোপিত ভ্যাটের পরিমাণ দুটি ক্ষেত্রে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুরোধ ও প্রস্তাবে এসব করা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

অর্থ বিল পাসের সময় অর্থমন্ত্রী তার সমাপনী বক্তব্য বলেন, যদি কোনো কারণে কোনো করদাতা অতীতে তার আয় কম প্রদর্শন করে থাকেন বা কোনো কারণে প্রাপ্ত অর্থ সম্পদ বিবরণীতে প্রদর্শন করতে না পারেন, সেক্ষেত্রে তিনি সে আয় বিদ্যমান আইন অনুযায়ী স্বেচ্ছামূলকভাবে প্রদর্শন করতে পারেন। এ জন্য শুধু প্রদেয় করের ১০ শতাংশ অতিরিক্ত জরিমানা দিতে হয়।

তিনি বলেন, এভাবে জরিমানাসহ কর প্রদান করে একজন  করদাতা তার অপ্রদর্শিত আয় প্রদর্শন করার পর তা শিল্প-বাণিজ্যসহ অপরাপরক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে পারবেন। যথা নিয়মে কর প্রদান করলে এরূপ ঘোষিত আয় ও বিনিয়োগ সম্পর্কে কর বিভাগ থেকে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না। বিনিয়োগ উৎসাহ দেয়ার স্বার্থে এই সংশোধনটি প্রস্তাব করছি।’


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।