টানা বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে রাজধানীবাসী, ডুবে গেছে অনেক রাস্তা

টানা বৃষ্টির কারণে  রাজধানীতে ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। অনেক রাস্তা পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক রাস্তায় পানির কারণে যানচলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে শনিবার সকালে অফিসগামী যাত্রীদের পড়তে হয় চরম ভোগান্তিতে। মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। এই বৃষ্টি আরো দুই থেকে তিন দিন স্থায়ী হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

আবহাওয়া অধিদফতরের সর্বশেষ রেকর্ড অনুযায়ী শুক্রবার ভোর থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত ঢাকায় ৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।  এছাড়া সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে টেকনাফে ১৯৩ মিলিমিটার।
টানা বৃষ্টিপাতের কারণে রাজধানীর শান্তিনগর, মগবাজার, মালিবাগ-মৌচাক, নয়াপল্টন, রাজারবাগ, শেওড়াপাড়া এবং মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সড়ক তলিয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও হাঁটু পানি জমে গেছে।
এ অবস্থার কারণে শনিবার সকালে পথচারীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী ব্যক্তিকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। হাঁটু পর্যন্ত প্যান্ট গুটিয়ে ও জুতা হাতে নিয়ে অনেকেই পানি জমে থাকা স্থানটি পার হন। আর যারা যাতায়াতের জন্য রিকশা, অটোরিকশা বা অন্য কোনো যান ব্যবহার করছেন তাদের একটু বেশি ভাড়া গুণতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী একজনের অভিযোগ, পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকা, জরাজীর্ণ রাস্তার সংস্কার না হওয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
রাজধানীজুড়ে সৃষ্ট এ জলাবদ্ধতায় ছিন্নমূল, শ্রমজীবী এবং অফিসগামী মানুষদেরই বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয়।
মতিঝিলের এক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, এ এলাকায় ব্যাংকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু সামান্য বৃষ্টি হলেই এলাকার মূল রাস্তাসহ বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। কখনো হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে রাস্তায় এবং সেই পানি পার হয়েই সবাইকে অফিসে যেতে হচ্ছে।
এছাড়া বৃষ্টির কারণে অনেকের ব্যবসা-বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফুটপাতের খুচরা ব্যবসায়ীরা দোকান খুলতে পারছেন না। আর যারা খুলছেন তাদের তেমন বেচাকেনা নেই। কারণে বৃষ্টি হলে মানুষ ঘর থেকে কম বের হয়।
এদিকে, আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমী বায়ুর সক্রিয়তার কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালার সৃষ্টি হচ্ছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।ফলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং মংলা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার সমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি গিয়ে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।