চট্টগ্রামে জুতা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

চট্টগ্রাম রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকায় (সিইপিজেড) একটি বিদেশী জুতা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ছয় ঘণ্টা স্থায়ী এ আগুনে কেউ হতাহত না হলেও কারখানাটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রোববার ভোর রাত সাড়ে তিনটার দিকে  ‘পাভেলা সুজ’  নামে ওই জুতার কারখানাটিতে আগুনের সুত্রপাত হয়। সকাল পৌনে সাড়ে ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণ এসেছে বলে জানান চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের ডেপুটি ডাইরেক্টর রুহুল আমিন।

রুহুল আমিন জানান, আগুন লাগার কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা সম্ভব হলেও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এখনো কাজ করছেন। কারণ জুতা কারখানায় কেমিক্যাল ও রাবার জাতীয় দাহ্য পদার্থের বিপুল মওজুদ থাকায় ধ্বংস্তুপের আগুন থেকে যেকোনো সময় পুনরায় আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে।
বেপজা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ইপিজেড়ের ৪ নম্বর রোড়ের শেষ মাথায় অবস্থিত ‘পাভেলা সুজ’ নামে জুতা তৈরির কারখানাটিতে ভোরে হঠাৎ আগুনের সুত্রপাত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ভবনের নিচতলায় রাসায়নিক দাহ্য পদার্থ থেকে এ আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। রাতে কারখানা বন্ধ থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কারখানাটিতে ভোর রাতে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রথমে দোতলা ভবনের নিচ তলার গুদামে আগুন লাগলেও দাহ্য পদার্থ থাকার কারণে আগুন দ্রুত পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলের আশেপাশে পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত হয় বলে ফায়ার সার্ভিস অভিযোগ করলেও তা অস্বীকার করেন ইপিজেড কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক জসীম উদ্দিন নতুন বার্তাকে জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে নগরীর আগ্রাবাদ পতেঙ্গা, ইপিজেট, বায়োজিদসহ বিভিন্ন স্টেশন থেকে তিনটি ইউনিটের ১৫টি গাড়ি আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেয়।

তিনি জানান, কারখানার ভেতরে কেমিক্যাল থাকায় ভেতরে প্রবেশ করে আগুন নেভানো যাচ্ছিলো না। প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে চলা আগুনে কারখানাটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে তা তাৎক্ষণিকভাবে  নিরূপণ করা যায়নি।

তবে আগুনে সম্পূর্ণ রফতানিমুখি এই প্রতিষ্ঠানটির প্রায় দশ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।