উদ্বোধনের অপেক্ষায় ফুলগাজীর চরকা ও তাঁত প্রকল্প

ফুলগাজী উপজেলার গান্ধী আশ্রম ট্রাষ্ট (খাদি প্রতিষ্ঠান) এর নতুন প্রকল্প চরকা ও তাত মেশিনগুলো এখন উদ্বোধন এর অপেক্ষায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নতুন মুন্সীরহাট বাজারে অবস্থিত গান্ধী আশ্রম ট্রাষ্ট (খাদি প্রতিষ্ঠান) এর নতুন প্রকল্প চরকা ও তাত কাপড় তৈরির অপেক্ষায় রয়েছে। উদ্বোধনের পর ৮টি তাঁত ও ১২টি চরকা দিয়ে প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে চাহিদা অনুযায়ী বাড়তে পারে। প্রকল্প কাজ আরম্ভ হলে এখান থেকে উৎপন্ন হবে গামছা থান কাপড়, থ্রী-পিছ, বেড কভার, চাদর, ওড়না, পাঞ্চাবী ও ফতুয়ার কাপড়। ৮টি তাঁত ও ১২টি চরকার কাজে নিয়োজিত থাকবে ২০ নারী শ্রমিক। এখান থেকে ২ জন শ্রমিক চন্দনা চক্রবর্তী ও সুলতানা ইয়াসমিন রুমা গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে তাঁত ও চরকার কাপড় তৈরির উপর প্রশিক্ষণ নিয়ে বাকী ১৮ জন শ্রমিককে প্রশিক্ষণ দিবেন।

নতুন মুন্সীরহাট গান্ধী আশ্রম ট্রাষ্ট এর ম্যানেজার প্রফুল্ল ভৌমিক জানান, গান্ধী আশ্রম ট্রাষ্ট এর নতুন মুন্সীরহাট শাখা থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন সু-শাসন ও মানবাধিকার বিষয়ক প্রচার অভিযান, মানব সম্পদ উন্নয়ন কর্মসূচি (ঋণ প্রকল্প) চরকা ও তাঁত প্রকল্প।

চরকা ও তাঁত প্রকল্পের শ্রমিকদের তৈরি পণ্যের উপর শতকরা ৩০ ভাগ টাকা পাবে শ্রমিকেরা এবং তারা সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কাজ করবেন। নতুন মুন্সীরহাট ছাড়াও এই তাঁত প্রকল্প রয়েছে। প্রধান কার্যালয় নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে। বর্তমানে বাংলাদেশে গান্ধী ট্রাষ্ট এর ৬টি কার্যালয় রয়েছে। যার সবগুলো বৃহত্তর নোয়াখালীতে অবস্থিত। জয়াগ সোনাইমুড়ী নোয়াখালী প্রধান কার্যালয়, রামগঞ্জ লক্ষীপুর পানীয়ানা, রামগঞ্জ, লক্ষীপুর, বজরা নোয়াখালী, কুমিল্লা অভয় আশ্রম নতুন মুন্সীরহাট খাদি প্রতিষ্ঠান, ফুলগাজী, ফেনী। ১৯২১ সালের ৩১ আগষ্ট মহাত্ম গান্ধী চট্টগ্রাম যাবার পথে ফেনী রেল ষ্টেশানে নামেন এবং সেখানে সভা করেন। সাবেক বীরেন্দগঞ্জ বাজার বর্তমানে নতুন মুন্সীরহাট বাজারে খাদি প্রতিষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন। ১৯২১ সালের মহাত্মন গান্ধী বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেন। সেই আন্দোলনে কর্মসূচিতে বৃটিশ উৎপাদিত পণ্য, বস্ত্র পরিহার করতে খাদি প্রতিষ্ঠান গুলো তৈরি করেন। তৎকালীন মহারাজ বীর বিক্রম মানিক্য বাহাদুর খাদি প্রতিষ্ঠানের জন্য ৮১ ডিসিমেল ভূমি দান করেন এবং পরে আরোও ৪০ ডিসিমেল ভূমি ক্রয় করেন। ১২১ ডিসিমেল ভূমির উপর অবস্থিত এই কার্যালয় এরশাদ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় অধিগ্রহণ ছাড়া ৪০ ডিসিমেল ভূমি দখল করে একটি খাদ্য গুদাম নির্মাণ করেন। যা এল.জি.ই.ডি নতুন মুন্সীরহাট খাদ্য গুদাম হিসেবে পরিচালিত এবং এই ভূমি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে বলে জানা যায়।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।