টেকনাফে কৃষকদের মাঝে লবণাক্ত সহিষ্ণু ও উচ্চফলনশীল ধানের বীজ বিতরণ

টেকনাফের উপকূলীয় এলাকার ২৮ জন কৃষকের মাঝে প্রদর্শনী প্লটের জন্য লবণাক্ত সহিষ্ণু ও উচ্চফলনশীল জাতের ধানের বীজ বিতরণ করা হয়েছে। বাহারছড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাওঃ হাবিব উল্লাহ আনুষ্ঠানিকভাবে ধানের বীজ বিতরণ করেন। ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাষ্ট ফান্ডের অর্থায়নে পরিবেশ অধিদপ্তর ও নেচার কনজারভেশন ম্যানেজমেন্ট (নেকম) নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়াম কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন সমাজ ভিত্তিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন (সিবিএইসএ) প্রকল্পের উদ্যোগে গ্রাম সংরক্ষণ দল (ভিসিজি) কৃষক সদস্যদের মাঝে এই লবণাক্ত সহিষ্ণু উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান বিনা -৭ ও লবনাক্ত সহিষ্ণু ব্রি -৪০ ও ব্রি- -৪১ বিতরণ করা হয়েছে।

তম্মধ্যে বিনা ধান -৭ প্রাপ্ত ১২ জন কৃষক হলেন- পশ্চিম মহেষখালীয়াপাড়ার আলী হোসেন ও শফিকুল ইসলাম, দক্ষিণ মহেষখালীয়াপাড়ার  নুরুল বশর, হাদুরছড়ার মোঃ সলিম, শামলাপুরের জাকের হোসেন, মোঃ হাসান ও মনোয়ারা বেগম, শীলখালীর ছৈয়দ হোসেন শামসুল আলম ও আবদুল আমিন , বড় ডেইলের নুরুল ইসলাম ও আবদুস সালাম। ব্রি ধান -৪০ প্রাপ্ত ৮ জন হলেন- নয়াপাড়ার নজির হোছন, খুরের মূখের দরবেশ আলী,ও সুলতান আহম্মদ, শাহপরীরদ্ভীপ মাঝরপাড়ার কালামিয়া ও নুর আলী,মিস্ত্রিপাড়ার ইমান শরীফ,পশ্চিম মহেষখালীয়া পাড়ার সুলতান আহমদ, শীলখালীর হুমায়ুন কাদের। ব্রি ধান -৪১ প্রাপ্ত ৮ জন কৃষক হলেন- নয়াপাড়ার মোঃ শরীফ ও মোঃ ইয়াকুব, খুরের মূখের সিরাজুল ইসলাম ও হাজী এজাহার মিয়া।

শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়ার হাফেজ উল্লাহ, মাঝরপাড়ার সোনা আলী, শামলাপুরের সিকদার আলী, শীলখালীর নুরুল আবছার। নেকমের কনজারভেশন বায়োলজিস্ট কৃষিবিদ মোঃ কামরুল আহসান জানান- বিনা ধান -৭ একটি উচ্চফলনশীল ও আগাম জাতের ধান। যার গড় ফলন প্রতি হেক্টরে ৫ টন। এবং জীবন কাল ১১৫ থেকে ১২০ দিন। বিনা ধান-৭ আগাম জাতের ধান হওয়ায় এ জাত চাষ করে সহজেই উপকৃত হওয়া যায়। ব্রি -ধান -৪০ ও ব্রি ধান-৪১ লবণাক্ত  সহিষ্ণু ও উচ্চফলনশীল জাতের ধান। যা ৮ ডিএস মাত্রার লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে। টেকনাফের অনেক ফসলী জমি প্রবল জোয়ারের জন্য প্রায় সময় লবনাক্ত পানিতে প্লাবিত থাকে। উক্ত জাতের চাষাবাদ করে এ সমস্যা দূর করা সম্ভব। শেষোক্ত জাতের ধান দু’টির জীবনকাল ১৪৫ থেকে ১৪৮ দিন এবং হেক্টরপ্রতি  উৎপাদন ৪.৫ টন।  বীজ বিতরণ অনুষ্ঠানে পরিবেশ অধিদপ্তরের সিসিএও মোঃ ইউছূপ হাসান, সিআইডিও আবদুল মালেক, এনআরএমও মোঃ হাসিবুর রহমান, নেকমের প্রোগ্রাম অফিসার কেএম নাদিন হায়দার  ও কনজারভেশন বায়োলজিস্ট কৃষিবিদ কামরুল আহসান সহ অন্যন্যরা উপস্থিত ছিলেন।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।