রজশাহী বিভাগে পরিবহন ধর্মঘট স্থগিত

রাজশাহী বিভাগে ডাকা অনির্দিষ্টকালের পরিবহণ ধর্মঘট স্থগিত করেছেন পরিবহণ শ্রমিক নেতারা। মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে তার কার্যালয়ে পরিবহণ শ্রমিক নেতাদের বৈঠকে দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দেয়ায় অনির্দিষ্টকালের এ পরিবহণ ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে। পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশনের রাজশাহী বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কামাল হোসেন রবি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি আরো জানান, মঙ্গলবার বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে পরিবহণ শ্রমিক নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশনের রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির ১০ দফা দাবির মধ্যে চারটি দাবি প্রশাসন মেনে নিয়েছে।

বাকি ছয়টি দাবি আগামী ঈদের পর অর্থাৎ দেড়মাসের মধ্যে পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন কর্তপক্ষ। সে কারণে ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া ধর্মঘট স্থগিতের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীসহ অনেকের আর্থিক ক্ষতির বিষয়টিও বিবেচনা করা হয়েছে।

তিনি জানান, ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দেয়ার পর মঙ্গলবার বিকেল পাচটা থেকে যথারীতি আগের মতই বাস, ট্রাকসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে।

এদিকে, দ্বিতীয় দিনের মত মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত ছিল। এর ফলে রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকে। এতে করে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী সাধারণ ও ব্যবসায়ীরা।

জরুরি প্রয়োজনে বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে আসা অনেক লোক মঙ্গলবার সকালেও টার্মিনালে ভিড় করেন। ধর্মঘট অব্যাহত থাকার কথা শুনে তারা বেকায়দায় পড়েন। তবে কেউ কেউ ট্রেনে কিংবা বিকল্প পথে পা বাড়ান গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। এজন্য তাদের অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হয়, পাশাপাশি নানা হয়রানি ও বিড়ম্বনার শিকার হন তারা। আমের মৌসুম হওয়ায় আম ব্যবসায়ীরা গত প্রায় দুদিনের ধর্মঘটে চরম বিপাকে পড়েন। এতে তাদের অনেক লোকসান গুণতে হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।

উল্লেখ্য, ১০ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সোমবার সকাল ছয়টা থেকে অনির্দিষ্টকালের এ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশনের রাজশাহী বিভাগীয় কমিটি।

সূত্র মতে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশনের রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির ১০ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- পরিবহণ শ্রমিকদের নিয়োগপত্র দেয়া, হাইওয়ে পুলিশের চাঁদাবাজি ও হয়রানি বন্ধ, যমুনা  সেতুর ওজন প্লাজায় বাস চালকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত চাঁদা আদায় ও হয়রানি বন্ধ প্রভৃতি।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।