কুমিল্লায় শিবির-পুলিশ ব্যাপক সংঘর্ষ: ৫ পুলিশ সদস্য আহত

নিখোঁজ নেতাদের সন্ধান ও তাদের আদালতে হাজির এবং কেন্দ্রীয় সভাপতিসহ জাতীয় নেতাদের মুক্তির দাবিতে ছাত্রশিবিরের ডাকা বুধবারের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলাকালে কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে শিবির কর্মীদের হামলায় পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এসময় নগরী ও বুড়িচংয়ে আটটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে শিবির কর্মীরা।

আহতরা হলেন-পুলিশ কনস্টেবল সুরুজ, গাড়ি চালক কনস্টেবল ইকবাল, সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসআই) মোজাম্মেল, কনস্টেবল আবু হানিফ ও আবু তাহের। এদের মধ্যে কনস্টেবল সুরুজ ও ইকবালকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যদর্শীরা জানায়, সকাল সাড়ে ৮টায় মহানগরীর জাঙ্গালিয়া রোডে শিবির কর্মীরা পুলিশের ভ্যানকে লাঠি, ইট-পাটকেল নিয়ে ধাওয়া করলে পুলিশের ভ্যানটি একটি খাদ্য বহনকারী ভ্যানের সঙ্গে ধাক্কা লেগে পুলিশ কনস্টেবল সুরুজ ও গাড়ি চালক কনস্টেবল ইকবাল আহত হন।

এদিকে, সকাল ৯ টায় নগরীর টমছম ব্রিজ এলাকার নিউ হোস্টেলের সামনে শিবির কর্মীরা চারটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়।

এ বিষয়ে সদর দণি থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) সামসুদ্দিন জানান, সংঘর্ষের আশঙ্কায় ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

এছাড়া হরতালের কারণে নগরীর শাসনগাছা ও জাঙ্গালিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে কোনো দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যায়নি। তবে নগরীতে রিকশা-অটোরিকশা চলাচল করছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও ছোট যান চলাচল করছে।

এদিকে সদরের নোয়াপাড়া পাসপোর্ট অফিসের সামনে পিকেটাররা সকাল ৮ টায় গাছের গুড়ি ফেলে ১০/১৫ মিনিট রা¯তা অবরোধ করে রাখে।

এর আগে বুড়িচং উপজেলার সৈয়দপুরে সকাল সাড়ে ৭টায় হরতালের সমর্থনে ছাত্রশিবির মিছিল বের করলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। এ সময় শিবির কর্মীরা পুলিশকে ল করে ইট-পাটকেল ছোঁড়ে ও চারটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়।

এসময় ইট-পাটকেলের আঘাতে তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১৮ রাউন্ড রাবার বুলেট নিপে করে।

এ বিষয়ে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম পুলিশের ওপর হামলা ও রাবার বুলেট ছোঁড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়া কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চৌদ্দগ্রাম বাজার এলাকা ও ফাল্গুনকরা এলাকায় শিবির কর্মীরা পাঁচটি কাভার্ডভ্যানের গ্লাস ভাঙচুর করেছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।