গাজীপুর সিটি নির্বাচনে জাপার আনুষ্ঠানিক সমর্থন, এরশাদেরও সায়

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থী এমএ মান্নানকে সমর্থন দেওয়া নিয়ে ক্ষমতাসীন মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির নাটকীয় অবস্থান দেখা গেছে।

বুধবার সকালে গাজীপুর জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম বিএনপির প্রার্থী এমএ মান্নান আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গিয়ে তাকে তাদের দলের পক্ষে আনুষ্ঠানিক সমর্থন দেওয়ার কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘গাজীপুর জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) মাহমুদ হাসান এবং আমি বাধ্য হয়ে এমএ মান্নানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছি। তার পক্ষে এখন পুরো গাজীপুরের জাপা নেতাকর্মীরা কাজ করছেন।’

এ নিয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ কেন্দ্র থেকে কাউকে সমর্থন দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন। তবে স্থানীয় জাপার সমর্থনে তার যে সায় রয়েছে তাও প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘যেহেতু গাজীপুরে তাদের দলের কোনো প্রার্থী নেই। সুতরাং স্থায়ী নেতারা যাকে পছন্দ করবেন, তার সঙ্গে কাজ করতেই পারেন। এতে তেমন কোনো সমস্যা দেখছি না।’

এই সংবাদ সম্মেলনে এমএ মান্নানের প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানান সময়ের আলোচিত হেফাজতে ইসলাম। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা শাহ আহমাদুল্লাহ আশরাফ এই সমর্থনের কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘ইসলাম ও ইসলামী নেতৃবৃন্দের প্রতি সরকারের আচরণে আমরা এই সমর্থন দিতে বাধ্য হয়েছি। ইনশাআল্লাহ, আমরা মান্নানের বিজয় নিয়ে ঘরে ফিরব।’

সংবাদ সম্মেলনের আয়োজক ছিলেন- টেলিভিশন প্রতীক নিয়ে ভোটযুদ্ধে নামা এমএ মান্নানের প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আসম হান্নান শাহ।

এ সময় দলের আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন ছাড়াও হেফাজত এবং জাপার স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে তরিকুল তাদের প্রার্থীর বিজয় ছিনিয়ে সরকার তাল-বাহানা করছে বলে অভিযোগ করেন। তবে জনগণ ব্যালটে রায়ের মাধ্যমে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

গাজীপুরে মান্নানের বিজয় সুনিশ্চিত দাবি করে তরিকুল ভোটের ফল ঘরে না ওঠা পর্যন্ত গাজীপুরের ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের সজাগ থেকে মাঠে অবস্থানের আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আগে ও পরে বিএনপির এসব কেন্দ্রীয় নেতারা বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ করেন। তারা এ সময় জনগণকে টেলিভিশন প্রতীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।

এদিকে, গাজীপুরে মান্নানকে সমর্থন দেওয়া নিয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ জানিয়েছেন, তিনি এবং তার দল কাউকে সমর্থন দেননি।’

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলা ভিশন জানিয়েছে, তাদের ফোনে এরশাদ বলেছেন, ‘তিনি এবং তার দল জাতীয় পার্টি গাজীপুরের নির্বাচনে কাউকে সমর্থন দেননি।’

তবে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রার্থী আজমত উল্লাহ খান এবং বিএনপির প্রার্থী এমএ মান্নান তার কাছে দোয়া চাইতে এসেছিল। তিনি তাদের দুজনকেই বিজয়ী হওয়ার জন্য দোয়া করে দিয়েছেন।’

গাজীপুর জেলা জাপার সাধারণ সম্পাদকের সমর্থন বিষয়ে এরশাদ বাংলা ভিশন- কে বলেন, ‘যেহেতু গাজীপুরে তাদের দলের কোনো প্রার্থী নেই। সুতরাং স্থায়ী নেতারা যাকে পছন্দ করবেন, তার সঙ্গে কাজ করতেই পারেন। এতে তেমন কোনো সমস্যা দেখছি না।’

শুরু থেকে এই নির্বাচনে ক্ষমতাসী আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি জাতীয় পার্টির সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করে আসছে। এ নিয়ে এরশাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা দেখা করেন। এরপর স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার কাছে সমর্থন চান।

তবে প্রধানমন্ত্রীকে এরশাদ স্থানীয় নির্বাচন নির্দলীয় বলে সেখানে কারো সমর্থন দেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানান। এরপর এরশাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মূলত মির্জা ফখরুলকে এরশাদ গ্রিন সিগন্যাল দেয়ার পর গতকাল মঙ্গলবার তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এমএ মান্নান। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘স্থানীয় নেতাকর্মীরা আগে থেকেই তাকে সমর্থন দিয়ে আসছেন। আর আজ চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ তাকে সমর্থন দিয়েছেন।’

তবে সে সময়ে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও এরশাদের প্রেস সচিব সুনীল শুভ রায় আরটিএনএন- কে এই ধরনের সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি জানান, ‘মান্নান সাহেব দেখা করার পর স্যার তাকে দোয়া করে দিয়েছেন।’

এরশাদের সঙ্গে প্রায় ৩০ মিনিটের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মান্নান বলেন, ‘রাজনৈতিক মুরব্বি হিসেবে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের দোয়া নেয়ার জন্য এসেছি। তিনি আমাকে দোয়া এবং নির্বাচনে সমর্থন দিয়েছেন।’

এর আগে গত সোমবার সকালে এরশাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন গাজীপুর সিটি নির্বাচনের অপর প্রার্থী ক্ষমতাসীন ১৪ দল সমর্থিত অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।