ফুলগাজীতে ৩য় শ্রেণীর ছাত্রী বাল্য বিয়ে থেকে রক্ষা পেল: উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তেক্ষেপ

ফুলগাজীতে তৃতীয় শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী রিতা আক্তার (১৩) বাল্য বিয়ে থেকে রা ফেল ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবময় দেওয়ান এর হস্তেক্ষেপ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে রিতা আক্তার আলী আজম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রীর বিয়ে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবময় দেওয়ান বুধবার সাড়ে ৫টায় অভিযান চালায় রিতার বাসায় পুরাতন মুন্সীরহাট বাজারস্থ ভাই ভাই রাইচ মিলে। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফজলুল হক, আলী আজম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক তপন কান্তি পাল ও স্থানীয় ইউপি সদস্য। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতি টের পেয়ে রিতার পিতা তোতা মিয়া পালিয়ে যায়। বাসা থেকে রিতা ও বর সোহেল (১৭) কে, রিতার মা ও সোহেলের মা’কে আটক করে। নির্বাহী কর্মকর্তা উপস্থিত সবার সামনে জিজ্ঞাসা করলে রিতা জানান, বিয়ের ব্যাপারে সে কিছুই জানে না, সে লেখাপড়া করতে চায়।

বুধবার সে স্কুলে কাশ করে উপজেলা বঙ্গমাতা ফুটবল খেলায় অংশ গ্রহণ করেন। বর ও কনের অভিভাবকেরা উপস্থিত সবার সামনে অঙ্গীকার করেন রিতার পড়ালেখা চালিয়ে যাবেন ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেবেন না। এবং মা চেয়ে ছাড়া পান। এছাড়া ভাই ভাই রাইচ মিলের মালিক ও স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় রিতাকে হস্তান্তর করেন। জানা যায় রিতা সোহেলের ফুফাতো বোন, সে ফুলগাজী আনন্দপুর গ্রামের পোল্ট্রি ফার্মের শ্রমিক। সোহেল লীপুর জেলার লীপুর গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে এবং রিতাও একই গ্রামের তোতা মিয়ার মেয়ে। বর্তমানে তার বাবা-মা ভাই ভাই রাইচ মিলের শ্রমিক ও মুন্সীরহাট ইউনিয়নের দণি শ্রীপুর গ্রামের অধিবাসী।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।