পরিমলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন ভিকটিমের মা রাবেয়া খাতুন

ভিকারুননিসা নূন স্কুলের বসুন্ধরা শাখার দশম শ্রেণীর ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় একই স্কুলের শিক্ষক পরিমলের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দিলেন মামলার চতুর্থ সাক্ষী ভিকটিমের মা রাবেয়া খাতুন।  সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক আরিফুর রহমান সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহন করে আগামী ২২ আগস্ট বাকি সাক্ষীর জন্য দিন ধার্য করেছেন।

বৃহস্পতিবার ভিকটিমের রুদ্ধদ্বার কক্ষে (ক্যামেরা ট্রায়াল) সাক্ষ্যগ্রহণ করার কথা থাকলে ভিকটিম অসুস্থ থাকায় আদালতে আসেননি। পরবর্তী তারিখে ভিকটিম আদালতে এলে সেদিন রুদ্ধদ্বার কক্ষে (ক্যামেরা ট্রায়াল) হবে।

মামলার শুনানির সময় পরিমলকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়।

রাবেয়া খাতুন তার জবানবন্দিতে বলেন, “ভিকটিমের এক বান্ধবীর বাবা গিয়াস উদ্দিনের কাছে তিনি প্রথম মেয়ে ধর্ষিত হওয়ার খবর পান। পরবর্তীতে মেয়েকে জিজ্ঞাসা করে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে স্কুলের অধ্যক্ষকে অবহিত করেন। অন্যান্য ছাত্রী ও অভিভাবকও তাকে অবহিত করেন। কিন্তু তিনি কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় বাধ্য হয়ে মামলা দায়ের করেন।”

ভিকাররুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বসুন্ধরা দিবা শাখার দশম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে ২০১১ সালের ৫ জুলাই রাজধানীর বাড্ডা থানায় মামলা করেন ওই ছাত্রীর বাবা মাহমুদুল হক। মামলার পর ২০১১ সালের ৬ জুলাই পরিমল জয়ধরকে কেরানীগঞ্জের পরিমলের স্ত্রীর বড় বোনের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, ওই ছাত্রীকে প্রলোভন দেখিয়ে ২০১১ সালের ২৮ মে প্রথমে ধর্ষণ করে পরিমল। এ সময় ওই ছাত্রীর নগ্ন ছবি মোবাইলে ভিডিও করা হয়। পরে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে ১৭ জুনও ধর্ষণ করা হয়।

২০১১ সালের ২৮ নভেম্বর অধিকতর তদন্তকারী কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মাহবুবে খোদা ভিকারুননিসা নূন স্কুলের বসুন্ধরা শাখা প্রধান লুৎফর রহমান ও অধ্যক্ষ হোসনে আরা বেগমকে অব্যাহতির সুপারিশ করে শুধু পরিমল জয়ধরকে অভিযুক্ত করে আদালতে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন।

গত বছরের ৭ মার্চ পরিমলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।