জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বিরুদ্ধে পত্রিকার হকারের মোবাইল কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন ওয়াজ শোনার কারণে পত্রিকার হকারের মোবাইল কেড়ে নিয়েছেন।  আবারো আলোচনায় এসেছেন তিনি। পরে ওই হকারকে ছাত্রশিবির আখ্যায়িত করে পুলিশে ধরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন তিনি।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, গত ৩০ জুন সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তোফাজ্জল নামের পত্রিকার এক কিশোর হকার পত্রিকা বিলি করতে বের হয়। সে তার মোবাইল ফোনে ওয়াজের অডিও রেকর্ড শুনতে শুনতে পত্রিকা দিতে ভিসির বাসভবনে যায়।

ওই সময় ভিসি আনোয়ার হোসেন হকারকে ধমক দিয়ে তার মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেন। বলেন, ‘এই ছেলে তুমি কোন ক্লাসে পড়?’ হকার জানায় সে ক্লাস সেভেনে পড়।

তখন ভিসি হকারকে বলেন, ‘এই ছেলে, তাহলে তো তুমি তো শিবির কর। আমি তোমাকে পুলিশে দেব।’ তখন হকার ভয়ে দৌড়ে পালিয়ে আসে।

ওই হকার জানায়, ঘটনার পর চার দিনপার হলেও ভিসি এখন পর্যন্ত তার মোবাইল ফোনটি ফেরত দেননি। ভয়ে তিনি ওদিকে আর যেতেও পারছেন না।

প্রসঙ্গত, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ ছাত্রশিবিরের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। তবে বর্তমান ভিসি নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন ছাত্র, ছাত্র সংগঠন ও শিক্ষকদের শিবির বলে অভিহিত করা হচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৮ মার্চ মওলানা ভাসানী হলে ভিসি এক ছাত্রলীগকর্মীকে শিবির বলে তার দিকে তীর্যক মন্তব্য করলে তার এক বন্ধু এর প্রতিবাদ করেন। তখন ভিসি ওই শিক্ষার্থীকে বলেন, ‘এই ছেলে, তুমি কে?’

তখন ওই ছেলে বলেন, ‘স্যার আমি মিথুন। মিথুন সরকার।’ তখন তিনি বলেন, ‘তুমিও তো শিবির।’ শিক্ষার্থী বলেন, ‘স্যার, আমি তো হিন্দু।’ ভিসি বলেন, ‘হিন্দু তো কি হয়েছে? তুমি তো শিবিরের হিন্দু শাখার সদস্য।’

এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগ ও শিক্ষক সমিতির সাবেক এই নীল দলের নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে তিনি গত মাসে ‘শিবিরপন্থি’ নয়জন আওয়ামীপন্থি শিক্ষকের তালিকা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠিয়েছিলেন।

এদিকে, শিক্ষক সমিতির অবরোধের কারণে বৃহস্পতিবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন অবরুদ্ধ ছিল। এ নিয়ে টানা ১৫ দিন প্রশাসনিক ভবন বন্ধ রয়েছে। এই অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।