জিএসপি স্থগিতের কারণ ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও শ্রমিক নেতা আমিনুল ইস্যু

প্রভাবশালী দি ইকোনোমিস্ট পত্রিকা জানিয়েছেন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলামের কারণে বাংলাদেশ আমেরিকার জিএসপি সুবিধা থেকে বাদ পড়েছে ।

বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বাতিল নিয়ে ৪ জুলাই দি ইকোনোমিস্ট পত্রিকা একটি বিশ্লেষণে এ মন্তব্য করা হয়। ওই বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বিরাগভাজন হওয়ার কারণেই জিএসপি সুবিধা বাতিল করেছে আমেরিকা।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে মার্কিন সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা কনগ্রেশনাল পদকপ্রাপ্ত ড. ইউনূস আমেরিকার ‘প্রিয়ভাজন’ হিসেবে পরিচিত। তাই সরকার তাকে ক্রমাগত বিরক্ত করায় মার্কিন সরকার বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা স্থগিত করে থাকতে পারে।

এছাড়া, ২০১২ সালে আমিনুল ইসলাম নামে এক শ্রমিক নেতা পুলিশি নির্যাতনে মারা যান। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিশ্বের সুশীল সমাজ প্রতিবাদ জানায়। মানবাধিকার সংস্থাসহ বিভিন্ন ব্যক্তি সরকারের কাছে বিষয়টির ব্যাখা চেয়ে চিঠি পাঠায়। তবে, সরকার তাদের চিঠির কোনো উত্তর দেয়নি। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা স্থগিতের সুপারিশ করে বলে দি ইকোনোমিস্ট’র ওই বিশ্লেষণে বলা হয়েছে।

এদিকে, বাংলাদেশের পোশাকশিল্প জিএসপি সুবিধা না পেলেও এই শিল্পের কারখানায় ক্রমাগত দুর্ঘটনা ঘটায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিএসপি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ইকোনোমিস্টের ওই বিশ্লেষণে বলা হয়।

ওই বিশ্লেষণটিতে আরো বলা হয়েছে, পোশাকশিল্প মার্কিন জিএসপি সুবিধা না পাওয়ায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এটা খুব একটা প্রভাব ফেলবে না। তবে, এটা দেশের ভাবমূর্তির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। জিএসপি স্থগিতের ফলে এরইমধ্যে বাঙরাদেশে রাজনীতিতে বিষ ছড়াতে শুরু করেছে বলে ওই বিশ্লেষণে বলা হয়েছে।

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের পোশাকশিল্প একটি বড় রাজনৈতিক অস্ত্র হয়ে উঠেছে বলে ইকোনোমিস্ট’র ওই বিশ্লেষণে বলা হয়েছে।

দি ইকোনোমিস্ট বলছে, ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে আমেরিকার ওয়াশিংটন টাইমস পত্রিকায় একটি নিবন্ধে বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া বর্তামান শেখ হাসিনা সরকারের আমলে শ্রম অধিকার না দেয়া ও বিরোধী মত দমনের কারণে আমেরিকা বাংলাদেশকে যে জিএসপি সুবিধা দেয়, তা বাতিলের অনুরোধ করেন।

বিশ্লেষণে মন্তব্য করা হয়, বাংলাদেশের বাণিজ্যও নির্বাচনের মতো পাঁচ বছরের  চক্রে বাঁধা। বাংলাদেশে নির্বাচন যতই এগিয়ে আসে, দেশটির অর্থনীতি ততই স্থবির হয়ে পড়ে। সম্প্রতি দেশের অর্থনৈতিক প্রবদ্ধি কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছে আইএমএফ ।

বিশ্লেষণে বলা হয়, আমেরিকা জিএসপি সুবিধা স্থগিতের পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বেগম জিয়ার ওই নিবন্ধের দিকে আঙুল তোলেছে। বিএনপি বিষয়টি জোরালোভাবে অস্বীকার করতে পারেনি। অন্যদিকে, খালেদার ওই নিবন্ধকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ দাবি করছে, বিএনপি জাতির শত্রু। কারণ বিএনপি দেশের ক্রমবর্ধমান পোশাকশিল্পের ক্ষতি করতে চায়।
এদিকে, মার্কিন জিএসপি সুবিধা বাতিলের কারণে বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য দেশেও শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার হারাতে পারে বলে ইকোনোমিস্টের ওই বিশ্লেষণে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশের পোশাক শিল্প অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গোলযোগ ও বিশ্ববাজারে টালমাটাল পরিস্থিতি—এই দুই কারণে সংকটপূর্ণ সময় পার করছে বলে ইকোনোমিস্ট মন্তব্য করে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।