কুমিল্লার সাত উপজেলায় ফায়ার স্টেশন নেই

কুমিল্লার দেবীদ্বার, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া, নাঙ্গলকোট, মনোহরগঞ্জ, মেঘনা ও তিতাস উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কোনো স্টেশন নেই। পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ থাকলেও ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতা থাকায় ওই উপজেলা গুলোতে এখনো ফায়ার স্টেশন স্থাপন করা যায়নি। এ অবস্থায় সাত উপজেলার প্রায় ২২ লাখ বাসিন্দা অগ্নি দুর্ঘটনার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

এদিকে কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মো. শাহ্বুদ্দীন মজুমদার খবর তরঙ্গ ডটকমকে জানান, কুমিল্লা জেলার ১৬ উপজেলার মধ্যে নয়টি উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন রয়েছে। বাকি সাতটি উপজেলায় কোনো ধরনের ফায়ার স্টেশন নেই। ফায়ার স্টেশন করার জন্য সরকারের কাছে অর্থ রয়েছে। কিন্তু জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। ফায়ার স্টেশন স্থাপনের জন্য ২০০৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নাঙ্গলকোট উপজেলার কেন্দ্রা মৌজায় ৩৩ শতক জমি অধিগ্রহণ করা হয়। পরে ভূমির মালিকেরা ওই অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ কারণে নাঙ্গলকোটে ফায়ার স্টেশন করার প্রক্রিয়া আর এগোয়নি। চলতি বছরের ১৪ মার্চ দেবীদ্বারের ভারেরা মৌজা এবং ৪ জুন বুড়িচং উপজেলার গাজীপুর মৌজায় ফায়ার স্টেশন স্থাপন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে তিতাস উপজেলায় ফায়ার স্টেশন করার প্রস্তাবও রয়েছে। কিন্তু ব্রাহ্মণপাড়া, মনোহরগঞ্জ ও মেঘনা উপজেলায় জায়গা পাওয়া যায়নি।

এছাড়া ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শিদলাই আমির হোসেন জোবেদা ডিগ্রি কলেজের অধ্য মো. নজরুল ইসলাম খবর তরঙ্গ ডটকমকে বলেন, কুমিল্লার উত্তর জনপদের তিন উপজেলা দেবীদ্বার, ব্রাহ্মণপাড়া ও বুড়িচং এলাকায় কোনো ফায়ার স্টেশন নেই। এসব এলাকায় আগুন লাগলে কুমিল্লা ও মুরাদনগর থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের আসতে হয়। ততণে আগুনে পুড়ে সব ছাই হয়ে যায়।

এ সম্পর্কে নাঙ্গলকোটের সাতবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা ও শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্মৃতি সংসদের সদস্য সচিব আইনজীবী নাজমুল বারী চৌধুরী খবর তরঙ্গ ডটকমকে বলেন, নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জ কুমিল্লার দক্ষিণ এলাকার পাশাপাশি দুইটি উপজেলা। ওই উপজেলাগুলোতে এখনো ফায়ার স্টেশন হয়নি। এ ব্যাপারে স্থানীয় সাংসদ, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, মেয়রকে সবার আগে উদ্যোগ নিতে হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।