কক্সবাজারে ডিবি’র ওসির কাণ্ড!

কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ডিবি’র ওসি এ.কে.এম. মঞ্জুর আলমের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ মিলেছে। সেই সাথে রয়েছে সাধারণ জনগনকে অহরহ হয়রানি ও যেখানে সেখানে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতাদের সাথে যোগসাজস রেখে প্রভাব খাটিয়ে নিজেই বিচারক সেজে মোটা অঙকের টাকা আদায়ের অভিযোগ। সূত্রে প্রকাশ, কক্সবাজার জেলার জনৈক ব্যাক্তি ওই ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে। দায়েরকৃত অভিযোগের তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি)। ডিবি পুলিশের হাতে নির্যাতন ও হয়রানির শিকার কক্সবাজার শহরের দক্ষিণ রুমালিয়ার ছড়ার মমতাজুল ইসলামের পুত্র নুরুল ইসলাম নামের এক ভূক্তভোগীর আবেদনের প্রেক্ষিতে এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জনৈক আতিকুল ইসলাম নামের একজনের সাথে নুরুল ইসলামের জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। আতিকুল ইসলামের পক্ষ নিয়ে ডিবির ওসি মঞ্জুর দখলে থাকা ওই জমি ছেড়ে দিতে নুরুল ইসলামকে চাপ দেয়। এজন্য গত ১০ মে তাকে ডিবি কার্যালয়ে ডেকে পাঠায় ওসি মঞ্জুর আলম। সেখানেও তাকে ওই জমি ছেড়ে দিতে বলে। ছেড়ে না দিলে জেলসহ নানা হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে ৫লাখ টাকা ঘুষ দাবি করে। ঘুষ না দেয়ায় ক্ষেপে যায় ডিবি’র ওসি। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৩ জুন চট্টগ্রামের কর্মস্থল থেকে নুরুল ইসলামকে আটক করে কক্সবাজার ডিবি পুলিশের একটি টিম। এরপর তাকে কক্সবাজার ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসে। পরে সব জানাজানি হওয়ায় তাকে ছেড়ে দেয় ডিবি পুলিশ। পরে কৌশলে নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলা রুজু করানো হয়। মামলাটির তদন্তভার কৌশলে নিজের আয়ত্বে নিয়ে নেয় ওসি মঞ্জুর। এরপর থেকে নানা ভাবে হুমকি দিতে থাকে ওসি। এ হয়রানি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নুরুল ইসলাম ডিআইজির বরাবর আবেদন করে। আবেদনের প্রেক্ষিতে ডিআইজি অভিযোগের তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডিবির ওসি মঞ্জুর আলম এভাবে আরোও অনেক নিরীহ মানুষকে হয়রানি করে যাচ্ছে।
আরেকটি সূত্রে জানা যায়, সদরের ইদগাঁও ভোমারিয়াঘোনা এলাকার মৃত নজু মিয়ার পুত্র সৈয়দনূর ২০০৮ সালের ১৫ জুলাই হাজতে যায় এবং ২০১২ সালের ১৪ মার্চ ছাড়া পায়। কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে, ২০১১ সালের ১২ নভেম্বরের একটি মারামারি মামলায় সৈয়দনূরকে আসামী করা হয়েছে। সৈয়দনূরের প্রতিপক্ষের সাথে মোটা অঙকের টাকায় সন্ধিবদ্ধ হয়ে চলতি বছরের গত ৪ জুন বিলম্বে এ মামলাটি দায়ের করে। আর মামলায় গ্রেফতার দেখানোর জন্য ডিবির ওসি মঞ্জুর আলম সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করে। আদালতের কাছে বিষয়টি ধরা পড়লে  আদালত সাথে সাথে আবেদনটি খারিজ করে দেন। এছাড়া আরোও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।