ঠাকুরগাঁওয়ে প্রবল বর্ষণে ৩০টি গ্রাম প্লাবিত

ঠাকুরগাঁওয়ে প্রবল বর্ষণে এবং টাঙ্গন নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে সেখানকার কমপক্ষে ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। রোববার রাত পর্যন্ত শহরের হঠাৎপাড়া, খালপাড়া, মুন্সিপাড়া, পূর্ব হাজিপাড়ার ৫ শতাধিক বাড়ি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এখনো পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে লোকজন বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ঠাকুরগাঁও শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিচ্ছে।

এদিকে ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় রেলপথের কুজিশহর এলাকায় পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে এ রুটে রেল চলাচল।

অন্যদিকে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ঠাকুরগাঁওয়ের টাঙ্গন ব্যারেজের স্লুইসগেট বন্ধ থাকায় ওই এলাকায় ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার আরও চার গ্রামের দুই সহস্রাধিক ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে গেছে। ভেঙে গেছে অন্তত দুই শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি। ওইসব এলাকার রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বাড়িঘরে পানি ওঠায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে বন্যা কবলিত জনগণ।

ঠাকুরগাঁওয়ের ঘনিমহেশপুর গ্রামের সাদেকুল ইসলাম বলেন, “আমাদের ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গবাদি পশু নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছি আমরা। কোথায় যাবো, কী করবো বুঝে উঠতে পাড়ছি না।”

ঠাকুরগাঁওয়ের উত্তর বঠিনা গ্রামের মনির হোসেন জানান, শনিবার সারারাত বৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু টাঙ্গন ব্যারেজের যান্ত্রিক ত্রুটিতে স্লুইস গেট বন্ধ থাকায় গেট দিয়ে পানি যেতে পারছে না।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নঈমুল ইসলাম বলেন, “ব্যারেজের যান্ত্রিক ত্রুটি থাকায় পানি নিষ্কাশন হয়নি। এতে কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।”
এদিকে, পানিবন্দি পরিবারগুলোর কাছে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রোববার বিকেল পর্যন্ত কোনো সহায়তা পৌঁছায়নি বলে জানান পানিবন্দি মানুষেরা।

ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় রেলপথের কিছুটা ডুবে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ঠাকুরগাঁও রোড রেলস্টেশন ম্যানেজার মজনুর রহমান জানান, রেলপথ ট্রেন চলাচলের উপযোগী করা হচ্ছে। পানির কারণে সোমবার সকালে পঞ্চগড় থেকে ছেড়ে আসা লোকাল ট্রেনটি পথে আটকা পড়েছে।

এদিকে সোমবারও ভোর থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।