সরকার ৫-০ তে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে: ট্রাইবুনালে সাকা চৌধুরী

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর পরাজয়ের মধ্যদিয়ে সরকার ৫-০ তে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী। এর আগে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য পেশ করেছেন নিজাম আহমেদ। সাক্ষ্যে তিনি বলেছেন, একাত্তর সালের ৮ এপ্রিলের পরে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে পাকিস্তনের করাচির একটি বাসায় দেখা হয়েছে।

সোমবার বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রথম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সালাহউদ্দিন কাদের পক্ষে দ্বিতীয় সাফাই সাক্ষী তার সাক্ষ্যে এ কথা বলেন।

সাক্ষী নিজাম আহমেদ বলেন, আমার সঙ্গে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর প্রথম পরিচয় হয় নটরডেম কলেজে ১৯৬৭-৬৮ সালে। আমার বন্ধু ছিল কাইয়ুম রেজা চৌধুরী সে আমাকে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। কাইয়ুম রেজা চৌধুরীর ভাই সালমান এফ রহমানও ছিল। আমরা এক সঙ্গে ঘুরাফেরা করতাম।

তিনি বলেন, ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলন শুরু হলে আমরা তাতে অংশগ্রহণ করি। শহীদ আসাদ যখন গুলিবিদ্ধ হয় তখন আমি তার থেকে দুই ফিট দূরে ছিলাম।

এরপর সাক্ষী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ সন্ধ্যার দিকে আমরা বঙ্গবন্ধুর প্রেস সেক্রেটারি আমিনুল হক বাদশার কাছে প্রেস রিলিজের কপি দেয়ার জন্য হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে যাই। সেখানে বিদেশী সাংবাদিকদের কপি দেই। এরপর ওই দিন রাত সাড়ে দশটার দিকে পাকিস্তান আর্মিরা বলল যে, হোটেল থেকে কেউ বের হতে পারবেন না। ২৫ মার্চ রাত্র থেকে ২৭ মার্চ সকালে কারফিউ ভাঙ্গা পর‌্যন্ত আমরা ওই হোটেলে ছিলাম। সেখানে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাইমন ড্রিং এবং ফরাসি ফটোগ্রাফার মিশেল ছিলেন।

সাক্ষী বলেন, ২৭ মার্চ কারফিউ ভাঙ্গার পর আমার ছোট ভাই ও আমি ধানমন্ডিতে চলে যাই। কাইয়ুম তার মগবাজার বাজারের বাসায় চলে যায়। আর বাদশা আত্মগোপন করে।

এরপর সাক্ষী বলেন, ২৮ মার্চ আমি এবং কাইয়ুম সাহেব ধানমন্ডির ৮ নম্বর রোডে উপস্থিত এক সুইডিস পরিবারের বাসায় উঠি। যে বাসাটি সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বাড়ি থেকে দুই রাস্তার পরে অবস্থিত। ওই বাসায় আমরা ৪/৫ দিন ছিলাম। সেখানে শেখ কামালও ছিলেন। এ বাসায় থাকাকালে কাইয়ুম আমাকে বলেছিল যে, তিনি সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে বিমানবন্দরে রেখে এসেছেন। আর শেখ কামালকে ট্রাক্সি করে আরিচা ফেরিঘাটের উদ্দেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

এরপর সাক্ষী বলেন, একাত্তর সালে এপ্রিল মাসের ৭/৮ তারিখে কাইয়ুম, সালমান এবং আমি একই বিমানের করে করাচি যাই। সেখানে আমরা সালমানের বাসায় উঠি। সে বাসায় একদিন সালাহউদ্দিন কাদেরের সঙ্গে দেখা হয়।

এরপর আর দেখা হয়নি পরবর্তী ১৯৭৪ সালের এপ্রিল অথবা মে মাসে ঢাকার হোটেল পূর্বানীতে সালাহউদ্দিন কাদের সাহেবের সঙ্গে দেখা হয়।

সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষ হলে তাকে জেরা শুরু করেন প্রসিকউটর জেয়াদ আল মালুম। পরে জেরার জন্য সময় প্রয়োজন উল্লেখ করে ট্রাইব্যুনালের কাছে সময় আবেদন করেন প্রসিকউশন। এরপর ট্রাইব্যুনাল আগামীকাল পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের মামলার কার্যক্রম মূলতবি করেন।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।