বখাটের বিরুদ্ধে থানায় নারী নির্যাতন মামলা রায়পুরে স্কুল ছাত্রীর তিনদিন স্কুল যাওয়া বন্ধ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর থানায় নারী নির্যাতন মামলা করায় ষষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রী একই এলাকার এক প্রভাবশালী বখাটে ও তার লোকজনের কারণে তিনদিন ধরে বিদ্যালয়ে যেতে পারছেনা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রীর পরিবারটি চরম আতংকের মধ্যে রয়েছে।
ওই ছাত্রীটি বাদি হয়ে রোববার (৭ জুলাই) রাতে উপজেলার চরবংশী গ্রামের মোহাম্মদ আলী দেওয়ানের বখাটে ছেলে আবদুল আলীর বিরুদ্ধে থানায় নারী নির্যাতন মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চরবংশী গ্রামের কৃষক পরিবারের কিশোরী মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে প্রায় সময় উত্ত্যক্ত করত একই এলাকার মোহাম্মদ আলী দেওয়ানের ছেলে বখাটে আবদুল আলী। গত ২ জুলাই সকালে ছাত্রী স্কুলে যাওয়ার পথে তুলে নিয়ে নির্যাতন করে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে চাইলে বখাটের পরিবার ও তাদের লোকজনের কারণে মামলা করতে পারেনি। তাই বাধ্য হয়ে রোববার রাতে মেয়েটি বাদি হয়ে আবদুল আলীকে আসামী করে থানায় নারী নির্যাতন মামলা করেন। এ মামলা তুলে নেয়ার জন্য গত তিনদিন ধরে নানান ধরণের হুমকি ধমকি বখাটের পরিবার নির্যাতিতের পরিবারকে আতংকিত ও অস্বস্তি করে তুলছে।
মঙ্গলবার (৯ জুলাই) নির্যাতিত ছাত্রীটি জানান, আমাকে অমানসিকভাবে বখাটে আবদুল আলী নির্যাতন করে। এলাকার মানুষের কাছে বিচার পাইনি। আমি তিনদিন ধরে তাদের ভয়ে স্কুলে যেতে পারছিনা। আমি লেখাপড়া করতে ও বিদ্যালয়ে যেতে চাই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার কয়েকজন জানান, মেয়েটিকে নির্যাতনের (ধর্ষণ) ঘটনায় ৩ জুলাই রাতে ওই ইউনিয়নের বড়কান্দির জামিল খানের বাড়িতে এক শালিস বৈঠক বসে। বৈঠকে দুই ধর্ষককে ৪’শ জুতাপেটাসহ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করে এবং জুতাপেটা করা হয়। এলাকার কয়েকজন মাতাব্বরের কারণে অপর ধর্ষক আবুল কাসেমকে বাদ দিয়ে বাধ্য হয়ে আবদুল আলীকে আসামী করে থানায় মামলা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত মেয়েটির পরিবার। এসময় শালিস বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য বাচ্চু আসামী, সোলেমান মোল¬া, রোকন দেওয়ান প্রমূখ।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিন ইউপি সদস্য ও কয়েকজন শালিসদার জানান, মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়নি। তবে উত্ত্যক্ত করা হত এবং শ্লীলতাহানী করা হয়েছে। এজন্য দুই বখাটেকে এ জরিমানা ধার্য ও জুতাপেটা করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলছাত্রীর পিতা জানান, দুই বখাটে আবদুল আলী ও আবুল কাসেম প্রায় সময় স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে মেয়েটাকে উত্ত্যক্ত করতো। অবশেষে মেয়েটাকে তারা নির্যাতন করল। এ ঘটনায় স্থানীয় মাতবররা নামমাত্র একটি শালিস বৈঠক করে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য ও জনসম্মুখে ৪’শ জুতাপেটা করে। এতে আমরা সন্তুষ্ট হইনি। রোববার বিকেলে থানায় আসার পথে এলাকার কয়েক মাতাব্বর আবুল কাসেমের নাম বাদ দিয়ে মামলা করার জন্য বাধ্য করায় আবদুল আলীর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন মামলা করতে হয়েছে।
রায়পুর হাজীমারা ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) আব্দুল খালেক বলেন, বখাটে আবদুল খালেকে আসামী করে থানায় নারী নির্যাতন মামলা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কিশোরী। মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।