কুবিতে শিক্ষদের পাল্টাপাল্টি অবস্থান, ভিসি অবরুদ্ধ

পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও প্রগতিশীল শিক্ষক জোট। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে নানা অনিয়ম ঠেকাতে ১৩ দফা দাবিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু পরিষদ আন্দোলন করছে। এরই অংশ হিসেবে বুধবার উপাচার্যকে ৬ ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা । একই সঙ্গে এক ব্যাক্তিকে একাধিক পদের দায়িত্ব থেকে অপসারনের দাবি করে আসছিলেন ।
গত রোববার তারা উপাচার্যকে ২৪ ঘন্টা সময়সীমা বেধে দিয়েছিলেন। ২৪ঘন্টা পার হলেও কোন পদক্ষেপ না নেয়ার কারনে তারা ২য় দিনের মত বুধবার উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখে । বুধবার সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু পরিষদ উপাচার্যের কক্ষের সামনের গেটে তালা লাগিয়ে দেয়। তারা উপাচার্য কক্ষের সামনে মেঝেতে বসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। দুপুর তিনটার দিকে উপাচার্য অসুস্থ হয়ে পড়লে ডাক্তার থেকে লিখিত ব্যবস্থা প্রত্র পাওয়ার পর মানবিক বিবেচনায় বঙ্গবন্ধু পরিষদ তাকে বিশ্্রামের জন্য বাসভবনে পাঠায়। তবে বঙ্গবন্ধু পরিষদ উপাচার্যকে কয়েকটি শর্ত দেয় যথাক্রকে উপাচার্য বাড়ি থেকে বের হয়ে ঢাকা যেতে পারবে না, সুস্থ হয়ে অফিসে এলে তাকে আবারও অবরুদ্ধ করা হবে।

বঙ্গবন্ধু পরিষদ দাবি করে, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরে নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অনিয়ম হচ্ছে, একই ব্যাক্তিকে নিয়ম বর্হিভুতভাবে একাধিক দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে। কিন্তু উপাচার্যকে এই নিয়ে বারবার বলা হলেও তিনি কর্ণপাত করেননি। বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারন সম্পাদক ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো: আইনুল হক বলেন,‘ আমরা বিশ্বব্যিালয়ের দূর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি। একই ব্যাক্তিকে একাধিক পদের দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে নিয়মবর্হিভুত ভাবে, আমাদের সময়সীমা অনুযায়ী উপাচার্য আমাদের ১৩দফা দাবি মানেন নি তাই আমরা এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি।’ এ দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু পরিষদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় প্রগতিশীল শিক্ষক জোট। বুধবার বেলা সাড়ে বারটায় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অনিয়ম, অসাদাচরণ, বিশৃঙ্খলা এবং শিক্ষক লাঞ্ছনাকারীর শাস্তির দাবিতে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বসী প্রগতিশীল শিক্ষক জোটের ব্যানারে মানববন্ধন করে। মানবন্ধনের পর এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক ড. মো: আবু তাহের বলেন, ‘ বঙ্গবন্ধু পরিষদ মাত্র ১৫ জন শিক্ষক নিয়ে গঠিত তারা নিজেদের স্বার্থর জন্য এই রকম দাবি করছেন। তারা বিভিন্ন তদন্তাধীন বিষয় নিয়ে এই অবৈধ আন্দোলন করছেন।’

তারা দাবি করেন, বঙ্গবন্ধু পরিষদ অবৈধভাবে এই অরাজক পরিবেশ সৃষ্টি করছে। ’ তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। এই মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. সৈয়দুর রহমান। প্রগতিশীল শিক্ষক জোট দাবি করে তারা দুর্নীতি পক্ষে নয় তবে দুর্নীতিবাজরাই আজ সাধু সাজার চেষ্টা করছে। বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও প্রগতিশীল শিক্ষক জোট তাদের কর্মসূচী চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সকল বিষয় নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমির হোসেন খানের সাথে মুঠোফেনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয় নাই।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।