জামিন নিয়ে পিপি-বিচারক বাকবিতণ্ডা

একটি মামলায় ছয় আসামিকে জামিন দেয়া নিয়ে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও বিচারকের মধ্যে বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। বিচারক এক পর্যায়ে পিপি রোমেলকে ট্রাইব্যুনাল থেকে বের হয়ে যেতে বলেছেন। মামলাটি ছিল জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের নামে।

বুধবার ঢাকার ৭ নম্বর বিশেষ ট্রাইব্যুনালে ওই বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।

বুধবার ঢাকার ৭ নম্বর বিশেষ ট্রাইব্যুনালে রাজধানীর তেজগাঁও থানার ১৭(২)১৩ নম্বর মামলায় এজাহারনামীয় পাঁচজন আসামিসহ ছয়জন আসামির জামিন প্রার্থনা করে শুনানি করেন আইনজীবীরা।

অন্যদিকে শুনানিতে ওই ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর এএফএম মিজানুর রহমান রোমেল জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন।

শুনানি শেষে বিচারক দিলারা আলো চন্দ্রনা জামিন আবেদন করা ছয় আসামির জামিন মঞ্জুর করলে অতিরিক্ত পিপি রোমেল বলেন, “এজাহারনামীয় আসামিকে আপনি এভাবে জামিন দিতে পারেন না।”

ওই সময় বিচারক বলেন, “সিএমএম ও মহানগর দায়রা জজ আদালত থেকে এজাহারনামীয় আসামিসহ প্রায় ১০ জন আসামি জামিনে আছেন। এছাড়া আসামিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। তাই তারা জামিন পেতে পারেন। জামিন ঠেকাতে চান তো মহানগর দায়রা জজ আদালতের জামিন দেয়া ঠেকান না কেন।”

বিচারকের এ বক্তব্যের পর ওই পিপির সঙ্গে তার বেশ কিছুক্ষণ বাকবিতণ্ডা হয়।

এ সম্পর্কে পিপি রোমেল জানান, বিচারক তাকে এক পর্যায়ে ট্রাইব্যুনাল থেকে বের হয়ে যেতে বলেছেন। এ নিয়ে তিনি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. জহুরুল হকের কাছে ওই বিচারকের বিরুদ্ধে নালিশও করেছেন বলে জানান।

উল্লেখ্য, তেজগাঁও থানার ওই মামলায় গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পান্থপথের বসুন্ধরা সিটির পাশে এজাহারনামীয় ২১ জন আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ৪০০/৫০০ জন জামায়াত-শিবির কর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল বিস্ফোরক ও গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে মামলাটি করা হয়। বিস্ফোরক আইনের এ মামলায় গত ২৭ এপ্রিল আদালতে ২৭ জন আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। সম্প্রতি মামলাটি বিচারের জন্য ৭ নম্বর বিশেষ ট্রাইব্যুনালে আসে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।