ব্রাদারহুডের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা

মিশরের নতুন মনোনীত প্রধানমন্ত্রী হাজেম আল-বেবলাওয়ি বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির মুসলিম ব্রাদারহুডকে তিনি মন্ত্রিসভায় স্থান দেয়ার প্রস্তাব দেবেন।

 আল-বেবলাওয়ির এ প্রস্তাবকে আপাত দৃষ্টিতে একটি সমঝোতার চেষ্টা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে, ব্রাদারহুডের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেছেন, মোহাম্মদ মুরসিকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুনর্বহাল করার আগ পর্যন্ত ভবিষ্যৎ কোনো সরকারে তাদের কোনো ভূমিকা থাকবে না।
এর আগে মিশরের অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আদলি মানসুরের দেয়া নির্বাচনের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল ব্রাদারহুড। এদিকে, মিশরের ক্ষমতার পালাবদলকে ব্যাহত করে এমন কোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক করে দিয়েছে মিশরীয় সেনাবাহিনী। এর পরই রাজনৈতিক এই দরকষাকষির ইঙ্গিত দিল মিশরের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মনোনীত প্রধানমন্ত্রী হাজেম আল-বেবলাওয়ি।
আল-বেবলাওয়ির এর আগে হোসনি মোবারকের পতনের পর সামরিক সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে মিটমাটের উদ্দেশ্যে দেয়া আল-বেবলাওয়ির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে মুসলিম ব্রাদারহুডের সমর্থকেরা।
ব্রাদারহুডের একজন সমর্থক সাফাওয়াত হেগাজি বলেন, “মোহাম্মদ মুরসিই মিশরের একমাত্র বৈধ প্রেসিডেন্ট, তারই অধিকার রয়ছে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কোনো ব্যাক্তিকে নিয়োগ দেয়ার এবং মন্ত্রিসভায় কারা থাকবে তা নির্ধারণ করার। সেনাবাহিনীকে আমি বলবো, যেসব লোকদের তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে, তারা সবাই চোর।”
এদিকে, প্রেসিডেন্ট মুরসিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়া এবং নতুন প্রশাসনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে মিশরকে অর্থনৈতিক সাহায্য দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি ধনী রাষ্ট্র।
দুই বিলিয়ন ডলারের ঋণ এবং এক বিলিয়ন ডলার অনুদান দেয়ার অঙ্গীকার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। আর মিশরকে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের একটি সহায়তা প্যাকেজ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। এ দুটো দেশই কঠোর ইসলামপন্থী হলেও, তারা মুসলিম ব্রাদারহুডের সমর্থক নয়। মিশরের অর্থনীতিকে সচল রাখতে এখন বিদেশী সাহায্য খুবই প্রয়োজন। সূত্র: বিবিসি


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।