কোটাবিরোধী আন্দোলনের বিস্তার সারা দেশে

বিসিএসসহ সব সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা বাতিলের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সূচিত আন্দোলন এখন ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। দেশের প্রধান প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার এ দাবিতে আন্দোলন-বিক্ষোভ করেছেন। তারা ঘোষণা দিয়েছেন, তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে আন্দোলনরতরা শাহবাগ মোড় অবরোধ করতে যান। পুলিশ প্রথমে তাদের আলোচনার মাধ্যমে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বেঁধে যায়। শাহবাগ থেকে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। থেমে থেমে চলে সংঘর্ষ ভাঙচুর। এতে আহত হন বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী।

পুলিশ শতাধিক রাউন্ড টিয়ারসেল, রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এ সময় ১২ জন আন্দোলনকারীকে আটক করে পুলিশ। আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগ হামলা চালায় বলেও অভিযোগ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এদিকে, একই দাবিতে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেটের শাহজালাল ও সাভারের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন। বৃহস্পতিবার তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন।

এর আগে ৩৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন কয়েকশ’ চাকরিপ্রার্থী। ফলে ওই এলাকা দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অবরোধের সাড়ে সাত ঘণ্টার মাথায় বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন ৩৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেয়।

তবে শাহবাগ অবরোধের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি ‘বিসিএস-বঞ্চিতরা’। বিরতি দিয়ে অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আন্দোলনরতরা।

আন্দোলনরকারীদের প্ল্যাটফর্ম ‘মেধা উন্নয়ন মঞ্চ’ বুধবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও ৩৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল বাতিলে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

বুধবার রাত ১০টায় অবরোধে বিরতি দিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে তারা আবার শাহবাগ অবরোধ করবেন বলে আন্দোলনকারীদের লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়।

প্রসঙ্গত, গত ৭ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ক্যাডারের ৪৪২টি পদসহ মোট দুই হাজার ৫২টি পদে নিয়োগ দিতে ৩৪তম বিসিএসের বিজ্ঞাপন দেয়া হয়। অনলাইনে আবেদন করেন দুই লাখ ২১ হাজার ৫৭৫ জন প্রার্থী। গত ২৪ মে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এক লাখ ৯৫ হাজার পরীক্ষার্থী এতে অংশ নেন। গত সোমবার এই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় এবং মোট ১২ হাজার ৩৩ জন উত্তীর্ণ হন।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।