নিজের মৃত্যুর ছবি তুলে গেলেন মিশরের সাংবাদিক

তার দিকেই তাক করা রয়েছে সেনার বন্দুক। মুহূর্তের মধ্যে গুলির গর্জন। আর তার পর সব অন্ধকার। এভাবেই নিজের মৃত্যুর ছবি তুলে গেলেন মিশরের ২৬ বছর বয়সী চিত্রসাংবাদিক আহমেদ সামির আসিম। সোমবার যখন মুরসি-সমর্থকদের ওপর গুলি চালায় সেনা, তখন আসিম ছিলেন সেখানেই। জমায়েত যখন সবে শুরু হয়েছে তখন ভিডিও তুলতে শুরু করেন তিনি। এরপর চোখের নিমেষে ঘটতে থাকে একের পর এক ঘটনা। মুরসি সমর্থকদের ওপর গুলি চালাতে শুরু করে সেনা। অবশেষে একটি গুলি ধেয়ে আসে তার দিকেও। সে দিনের নিহত ৫১ জনের মধ্যে একজন আসিমও। সোমবারের ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে মিশরের সেনার তরফে বারবারই বলা হয়েছে সশস্ত্র হানা থেকে প্রধান কার্যালয় বাঁচাতেই গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছিল সেনা। আবার মুসলিম ব্রাদারহুডের শীর্ষ নেতাদের দাবি, কোনো ধরনের প্ররোচনা ছাড়াই সে দিন গুলি চালিয়েছিল সেনা। সেদিন ঠিক কী ঘটেছিল তার জলজ্যান্ত প্রমাণ আসিমের তুলে যাওয়া শেষ ভিডিওটি।

মঙ্গলবারই অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। হাসেম এল-বেবলাউই অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে মহম্মদ এলবারাদেইয়ের নাম ঘোষণা করা হয়।

এই ঘোষণার হাত ধরেই মিশরের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। মিশরের বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ৮০০ কোটি ডলারের অনুদান, ঋণ দেয়ার কথা ঘোষণা করেছে মুসলিম ব্রাদারহুড-বিরোধী এই দুই দেশ। পাশাপাশি আশ্বাস দিয়েছে, মিশরকে গ্যাস এবং তেলের জোগানও দেবে তারা। মুসলিম ব্রাদারহুডের পক্ষ থেকে ফের জানানো হয়েছে, মুরসিকে পদ ফিরিয়ে দিয়ে মিশরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তার বিকল্প কোনো ব্যবস্থাই মেনে নেবেন না তারা। মুরসি-বিরোধীরাও নতুন ব্যবস্থার কিছু বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। বিশেষ করে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আদলি মনসুরের অতিরিক্ত ক্ষমতা তুলে দেয়া হয়েছে বলেই মনে করছেন তারা। অবশ্য আগামী দু’মাসের মধ্যেই ভোট করিয়ে গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের আশ্বাসও দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে গণতন্ত্রের সংজ্ঞা নিয়ে এখনও দু’ভাগে বিভক্ত মিশর।

রমজান মাসের শুরুতে বুধবার তাহরির স্কোয়ার ছিল অনেকটাই জনশূন্য। তবু কড়া নিরাপত্তা দেশ জুড়ে। মিশরের ভবিষ্যৎ শান্তি না গৃহযুদ্ধ, সে দিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।