ক্ষমতাসীন সরকারের সামনে দুটি পথ খোলা আছে, একটি সংঘাত আর অন্যটি সমঝোতার:মওদুদ

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন ক্ষমতাসীন সরকারের সামনে দুটি পথ খোলা আছে। একটি সংঘাত আর অন্যটি সমঝোতার। মূল ধারার রাজনীতিতে থাকতে হলে সরকারকে সমঝোতার পথই বেছে নিতে হবে।

স্বদেশ জাগরণ পরিষদ ‘জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং বাস্তবতা’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

মওদুদ বলেন, বর্তমান সরকারের মধ্যে কতগুলো চক্র কাজ করছে, যার মধ্যে একটি দুষ্টচক্র আছে। এরা কয়েক মাস আগে শাহবাগে একটা নতুন জানালা খুলছে যার নাম দিয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ। তখনকার ইমরান সরকার এখন গেল কোথায়? তখন মনে হয়েছিল সে-ই সরকার পরিচালনা করছে।

সরকারের কাছে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, তারা এমন একটা ভাব দেখালো বাংলাদেশে একটা নতুন জাগরণ এসছে। দেশে একটা মহাবিপ্লব হতে যাচ্ছে।

গত ৫ মে হেফাজতের ওপর গণহত্যার কথা উল্লেখ করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ এ নেতা বলেন, ওই দিন কোনো গুলি করা না হলে কেন ইসলামিক টিভি ও দিগন্ত টিভির সম্প্রচার বন্ধ করে দিলেন? কেন ওই দিন লাইট বন্ধ করে দিলেন? ওই রাতে কি হয়েছিল দেশের মানুষ জানতে চায়?

তিনি বলেন, দেশের মানুষের কাছে আজও ৫ মের ঘটনার কোনো ব্যাখ্যা না দেয়ায় পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জনগণ সরকারকে উচিত জবাব দিয়েছে।

মওদুদ বলেন, সরকার সিটি নির্বাচন নিয়ে পর্যালোচনা করছে, নির্বাচনে হারার নানা অজুহাত দিচ্ছে। কিন্তু আসল কথা বলছে না। আসল কথা হলো- গত চার বছরে এই সরকারের চরম দুঃশাসন ও চরম দুর্নীতির জবাব জনগণ দিয়েছে।

বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর সরকারের অত্যাচার-নির্যাতনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে আইনের শাসনের বদলে দুঃশাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ ও গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে।

আওয়ামী লীগের অতীত ইতিহাসকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতা বলেন, বর্তামান প্রধানমন্ত্রীকে আল্লাহ তাদের পাপ থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন। তিনি একদলীয় শাসন, রক্ষিবাহিনীর হত্যা ও গণমাধ্যমের কন্ঠরোধ থেকে বেরিয়ে আসতে পারতেন। কিন্তু এসরকার তাদের অতীত ইতিহাসকে হার মনিয়েছে।

সরকারের সামনে সংঘাত ও সমোঝতার দুটি পথ খোলা মন্তব্য করে তিনি বলেন, সরকার সংঘাত ভুলে নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্বাচন দিলে মূল ধারার রাজনীতিতে থাকবে। অন্যথায় বর্তমান সরকার আগামীতে বাংলাদেশের মূল ধারার রাজনীতি থেকে দূরে চলে যাবে।

সংগঠনের সভাপতি মো. কামারুজ্জামান সেলিমের সভাপতিত্বে এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বিএনবপ চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামছুজ্জামান দুদু, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমতুল্লাহ, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হেলেন জেরিন খান প্রমুখ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।