মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কারণে পণ্যমূল্য ঊর্ধ্বমুখী

রমজানকে পুঁজি করে অন্য অন্য বছরের মতোই এবারেও কয়েকটি চিহ্নিত পণ্যের দাম চড়েছে। এর মধ্যে ঝাল বেড়েছে কাঁচামরিচের। আর ঝাঁজ বেড়েই চলেছে পেঁয়াজের। গুদাম ব্যবসায়ীদের কারসাজিতেই এমনটি ঘটে চলেছে অভিযোগ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের।

তাছাড়া রমজানকে পুঁজি করে এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী হাতেগোনা কয়েকটি পণ্য মূল্য বাড়িয়ে ফায়দা লুটে নেয়। যার মাসুল দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। অন্যদিকে সরকার বেধে দেওয়া মূল্যে পণ্য বিক্রি হচ্ছে না। তারপরও কিনিয়েদের ঠেলা ধাক্কার কমতি নেই। কাঁচামরিচের দাম ২০০ টাকা কেজি- দোকানির এই হাঁক শোনার পর কেউ কেউ হাঁ। কিন্তু তাদের করার কিছুই নেই। পবিত্রার মাসুল তো দিতে হবে। নতুবা প্রতি বছরই রমজানের দুদিন আগ থেকেই পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, বেগুন, শসা, ছোলা, সায়াবিন তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়বে কেন? কেন বা সরকার পণ্যদাম বেধে দিয়েও তা রা করতে পারছেন না? যেখানে প্রশাসন ব্যর্থ হয়, সেখানে সাধারণের নীরবে সহ্য করা ছাড়া কিইবা করার থাকে।

অন্যদিকে বিরোধী দল দায় সারা গোছের-সিন্ডিকেট করে জিনিসপত্রের দাম বাড়ানো হচ্ছে, এই মৌসুমি অভিযোগের উত্থাপন করেই তাদের দায়িত্ব খালাস। কক্সবাজারের একজন কাঁচামাল ব্যবসায়ী জানান, রমজানকে পুঁজি করে কতিপয় ব্যবসায়ী পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। সাধারণ ব্যবসায়ীরাও এর সঙ্গে হাত মিলায় অধিক মুনাফার জন্য। তার ভাষায় কাঁচামরিচ, বেগুনের কয়েক দিন বাড়তি থাকবে। তারপর সব আগের জায়গায় এসে যাবে। গতকাল বড় বাজারে বেগুন বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি, কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ২০০ টাকা, কাগুজি লেবু রকমভেদে প্রতি হালি ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, রমজান উপলে প্রায় জিনিসের দাম কেজি ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এর মধ্যে পেঁয়াজ, কাঁচামরিচের দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি।

শুক্রবার পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫৫ টাকা কেজি। এদিকে পাইকারি বাজারের চেয়ে ২০ থেকে ৩০ গুণ বেশি দাম হাঁকা হয় স্থানীয় বিভিন্ন বাজারে। পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোয় স্বাভাবিক সময়েও কেজি প্রতি কয়েক টাকা বেশি থাকে। ব্যবসায়ীরা বলেন, রমজানকে সামনে রেখে পণ্য বাজারে রীতিমত হোলি খেলা শুরু হয়ে যায়। কাঁচামাল ছাড়াও মাছ, মাংসের দামও বেড়ে গেছে। বিশেষ করে মাছের বাজারের কাছ ঘেঁষতেই মূল্য আঁচ গায়ে লাগে। চাষের পুঁটি প্রতি কেজি (যা দেশি বলে বিক্রি করা হয়) ৫০০ টাকা, ছোট ইলিশের হালি ১৪শ টাকা, পাঁচ মিশালি মাছ ৪০০ টাকা কেজি, বড় বাইন মাছ প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। এদিকে মাছের বাজার ও নিত্যপণ্য বাজারে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় হিমশিম খাচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষ। এ ব্যাপারে সচেতন মহল প্রতিদিন বাজার মনিটরিংসহ মোবাইল কোর্ট বসানোর জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।