কক্সবাজারে স্থায়ী ক্রিকেট স্টেডিয়াম নিয়ে বিসিবি’র ছলছাতুরী

কক্সবাজারবাসীকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের স্বপ্ন দেখিয়ে চূড়ান্ত সময়ে এসে হতাশার অতল গহ্বরে ডুবিয়েছে বিসিবি। এর মধ্যদিয়ে কক্সবাজারবাসীকে তাদের প্রাপ্য ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে মনে করেন জেলাবাসী। দু’দিন আগে পর্যটন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ থেকে ফিরে আসছে বিসিবি। তবে সৌজন্য রক্ষা করতে ২০১৪ সালের টি টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ২টি খেলা এখানে হতে পারে সেজন্য সম্পূর্ণ অস্থায়ীভাবে নির্মাণ করা হবে সবকিছু। যা খেলা শেষ হলে আবার গুটিয়ে ফেলা হবে।

এদিকে গত ২ দিন ধরে গণমাধ্যমে কক্সবাজারে অস্থায়ীভাবে ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের খবর প্রচার হলে ক্ষোভ ও হতাশায় ফেটে পড়ে জেলাবাসী। তাদের দাবি পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী এই সরকারি জমি প্লট করে ভাগ বাটোয়ারা করার জন্য স্টেডিয়াম করছে না। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সিনিয়র সদস্য সাজ্জাদুল আলম ববি বলেন গত কয়েকদিন আগে পর্যটন মন্ত্রণালয়, ক্রিকেট বোর্ড, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে উচ্চ পর্যায়ে প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। যতটুকু জানি সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে কক্সবাজারে অস্থায়ীভাবে ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ হবে। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ২০১৪ সালের টি-টুয়েন্টি মহিলা বিশ্বকাপের ২/৩টি খেলা সেখানে হতে পারে। এরপর মাঠের সব অস্থায়ী অবকাঠামো আবার খুলে ফেলা হবে। তাহলে এতদিন যেভাবে প্রচার চালানো হয়েছে কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ব্যাপারে সেটা কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন এটা বাংলাদেশ, এখানে সবকিছু সম্ভব। এর বেশি কিছু বলতে চাই না। এদিকে ১১ জুলাই রাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে সাক্ষাৎকারে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনও একই সুরে বলেছেন কক্সবাজারে সম্পূর্ণ অস্থায়ীভাবে ক্রিকেট স্টেডিয়াম হবে জমি পর্যটন মন্ত্রণালয়েরই থাকবে। এর মাধ্যমে পরিষ্কার হয়ে গেছে কক্সবাজারবাসীর সাথে প্রতারণা করেছে বিসিবি। অর্থাৎ আর ক্রিকেট স্টেডিয়াম হচ্ছে না।

আলাপকালে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জসিম উদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমরাও শুনেছি। তিনি বলেন এই ঘোষণার মাধ্যমে কক্সবাজারবাসীর নৈতিক পরাজয় হয়েছে। কক্সবাজারের মানুষের দীর্ঘদিনের আবেগ অনুভূতির সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। যেখানে স্বয়ং দেশের প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরও এ ধরনের বিপরীত ঘোষণা আসতে পারে সেখানে বলার ভাষা থাকেনা। যতটুকু জানি ২০১৪ সালের বেশির ভাগ ম্যাচ হবে ভারতে। আর বাংলাদেশে যে কয়েকটি হবে তাও ঢাকা এবং সিলেটে হতে পারে। মূলত এতদিন আমাদের যে স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল তা কেন দেখানো হয়েছিল তা জানতে চাই আমরা। এর সাথে আবারো প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে পরিপূর্ণ ক্রিকেট স্টেডিয়াম কক্সবাজারেই চাই।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালেক বলেন আমার কেন জানি মনে হয় এখানে বিসিবির কোন সূদুর প্রসারী চিন্তা আছে। কারণ একবার গলফ মাঠে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা হয়ে গেলে সেখানে আবার অন্যকিছু করা অত সহজ হবে না। আর আমরাও অত সহজে ছাড় দেব না। প্রয়োজনে আবারো রাস্তায় নামবো। আলাপকালে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য হেলাল উদ্দিন কবির বলেন হঠাৎ করে কোথা থেকে কিভাবে এমন হটকারী ঘোষণা আসলো বুঝতে পারছিনা। যদিও মাঠে কিন্তু এখনো কাজ চলছে তবে ভেতরে ভেতরে যে ষড়যন্ত্র চলছিল সেটা অনুধাবন করতে পারছিলাম। তবে যে ক্রিকেট স্টেডিয়ামের জন্য এতকিছু করেছি সেটা অসম্পূর্ণ অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া যাবে না। পৌর প্রিপ্যার‌্যাটরি উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক পরেশ দে বলেন যদি ক্রিকেট স্টেডিয়াম না হয় সেটা হবে কক্সবাজারবাসীর নৈতিক পরাজয়। দেশের কিছু মানুষ চায় না আমাদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া, খেলাধুলাই এগিয়ে যাক।

তারা সব সময় আমাদের পরাধীন হিসেবে দেখতে চায়। তারা জানে যদি এখানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম হয় বিদেশী খেলোয়াড়রা আসে তাহলে আমাদের ছেলেমেয়েরা ভাল খেলবে ভাল নাম করবে সেটা তাদের সহ্য হয়না তাই তারা এখানে ক্রিকেট হোক সেটা চায় না। এ সময় তিনি জেলায় জাতীয় পর্যায়ে অবদান রাখতে পারে এমন ব্যক্তিত্বের বড় অভাব রয়েছে বলে জানান। এদিকে আইনজীবী জিয়াউদ্দিন, সাহাদাত হোসেন, শিক্ষক প্রদীপ দে, ফুটবলার খোরশেদ আলম, মাসুদ আলম বলেন মূলত এই সরকারি জমির উপর আমলা ও নেতাদের কুনজর পড়েছে। তারা এটাকে প্লট করে ভাগকরে হোটেল বা বিক্রি করে টাকা আয় করতে এসব আজেবাজে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। যা আগের সরকারের আমলেও হয়েছে। বীচের বেশির ভাগ জমি নামে-বেনামে প্লট করে তারা আত্মসাৎ করেছে। এবারও সেটা করতে যাচ্ছে।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।