ফেনী-বিলোনীয়া সড়কের যাত্রী ছাউনিগুলোর বেহাল দশা

ফেনী-বিলোনীয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের যাত্রী ছাউনিগুলো ব্যবহারের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বেহাল দশা বিরাজ করলেও কর্তৃপক্ষের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। এতে করে যাত্রীদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফেনী থেকে পরশুরামের সুবার বাজার পর্যন্ত বিভিন্ন স্পটে ১০ টি যাত্রী ছাউনি রয়েছে। ফেনী টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, হাসানপুর শাহ আলম চৌধুরী স্কুল এন্ড কলেজ গেইটের পশ্চিম পাশে, কুতুবপুর রাস্তার মাথা, পুরাতন মুন্সিরহাট, ফুলগাজী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে, উপজেলা কার্যালয়ের সামনে, ফুলগাজী বাজার জিরো পয়েন্টে, সমিতির রোড, চিথলিয়া-ধনিকুন্ডা রাস্তার মাথায়, পরশুরাম বাজার ও সুবার বাজারে নির্মিত যাত্রী ছাউনীর মধ্যে ৬ টিই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অপরিচ্ছন্ন থাকায় অপর ৪টি ব্যবহার আগের চেয়ে কম হয়। নির্মাণের পর থেকে যাত্রী ছাউনীগুলোতে মেরামত না করায় জীর্ণশীর্ণ হয়ে গেছে। কুতুবপুর যাত্রী ছাউনী নির্মাণের সময় ভিটি পাকা করা হলেও ৩-৪ ফুট গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। হাসানপুর যাত্রী ছাউনীতে ফ্লোরে ফাটল ও একাংশে দেবে গেছে। ফুলগাজী জিরো পয়েন্টে যাত্রী ছাউনীর ফ্লোরে সিমেন্ট ও ইট ঢালাই উঠেছে। ছাঁদ-ভীম খসে পড়ছে। চিথলিয়া ছাউনীতে মাঝ বরাবর ফেটে গেছে। সমিতির রোড ছাউনীর ফ্লোর দেবে গেছে। কয়েকটি ছাউনী চা দোকানীরা অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছে।

এতে করে স্কুল-কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থী ছাড়াও যাত্রী সাধারণের বসার অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। এছাড়া বাজার, বাস, সিএনজি ট্যাক্সি, ইমা স্ট্যান্ড থেকে দূরত্বে অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ হওয়ায় স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় যাত্রীদের। ফেনী-পরশুরাম সড়কের ২ পাশ্বে পরিকল্পিতভাবে যাত্রী ছাউনী নির্মাণ না হওয়ায় জেলা পরিষদের জায়গা বেদখল করে নিয়েছে সিএনজি ট্যাক্সি স্ট্যান্ড ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা।

ফুলগাজী যাত্রী ছাউনীর সামনে অপেক্ষমান রাসেল আহম্মদ ভূঞা ও স্কুল-কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বললে তারা জানান, গর্ত ও ফ্লোর দেবে যাওয়ার ফলে যাত্রী ছাউনীতে এখন আর বসার সুযোগ নেই। উপজেলার নোয়াপুর, করইয়া, বদরপুর, কামাল্লা, ফকির খিল, বসন্তপুর, জগতপুর, ফতেহপুর, বরইয়া, দৌলতপুর, চন্দ্রপুর সহ আশপাশের এলাকাবাসীকে গাড়ীর জন্য রাস্তায় অপেক্ষা করতে হয়। এতে করে অনেক সময় দূর্ঘটনারও শিকার হতে হয়। তাদের দাবী, ফেনী-পরশুরাম সড়কের পাশে, নতুন মুন্সিরহাট বাজারে জগতপুর, মনিপুর, ছাগলনাইয়া সড়কের মাথায়, মুন্সিরহাট ইউনিয়ন পরিষদের পাশে জেলা পরিষদের জায়গায় যাত্রী ছাউনী নির্মাণ। তারা আরও জানান, ইতিপূর্বে নির্মিত যাত্রী ছাউনীগুলোতে চা দোকান ও কনফেকশনারীর জন্য ১-২ টি কক্ষ বরাদ্ধ হলেও সেখানে কসমেটিক্স, ফার্মেসী, মোবাইল সার্ভিসিং দোকান হিসেবে ব্যবহার হয়। এছাড়া দীর্ঘ মেয়াদী দোকান বরাদ্ধ না দিয়ে ৩ থেকে ৫ বছর মেয়াদী বরাদ্ধ দেয়া হলে জেলা পরিষদের রাজস্ব আদায় হবে বলে তারা জানান।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।