কাঠগড়ায় বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল : আল-জাজিরা

প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক নিউজ চ্যানেল আল-জাজিরার এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিজেই এখন কাঠগড়ায়। জামায়াতের নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর যুদ্ধাপরাধ মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী সুখরঞ্জন বালির গুমের ঘটনায় ‘বিতর্কিত’ যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের সততা বা ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে চ্যানেলটি। আল-জাজিরার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ ওয়ার ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল অন দ্য ডক (বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল কাঠগড়ায়)’ শিরোনামে প্রকাশিত নিবন্ধে এসব কথা বলা হয়।

নিবন্ধে বলা হয়, সাঈদীর মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী বালিকে ছয় মাসে আগে গুম করা হয়। এখন তিনি ভারতের কারাগারে বন্দী। এ ঘটনায় বিতর্কিত ট্রাইব্যুনালের সততা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নিবন্ধটি এমন সয়ম প্রকাশিত হলো যখন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের রায় ঘোষণা করছে।

সুখরঞ্জন বালিকে গত নভেম্বর ট্রাইব্যুনালের গেট থেকে অপহরণ করা হয়। কলকাতার কারাগারে বন্দি বালি নিউ এজ পত্রিকায় লিখিত একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, ডিবি পুলিশ তাকে ট্রাইব্যুনালের গেইট থেকে অপহরণ করে ছয় সপ্তাহ ঢাকায় আটক রাখার পর চোখ বেঁধে ভারতে পাঠিয়ে দেয়।

বালি ভারতের কলকাতায় ছয় মাসের বেশি সময় ধরে কারাগারে আটক রয়েছেন। ভারতের সীমান্তরকক্ষী বাহিনী বিএসএফও তার ওপর নির্মম নির্যাতন করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

বালিকে রাষ্ট্রপক্ষ তাদের সাক্ষী হিসেবে দেখালেও বাংলাদেশের গণমাধ্যমের সাথে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, তিনি আদালতে মাওলানা সাঈদীর পক্ষে সাক্ষী দিবেন এবং বলবেন- সাঈদী তার ভাইকে হত্যা করেনি।

নিবন্ধে বলা হয়, সুখরঞ্জন বালির ভাই বিশাবালিকে হত্যার অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল সাঈদীকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে। এখন সুপ্রিম কোর্টে সাঈদীর আপিল শুনানি চলছে। বালির  ঘটনায় এ রায় পাল্টে যাবে কিনা তা স্পষ্ট নয়।

এতে বলা হয়, ১৯৭১ সালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য মূলত জামায়াত নেতাদের বিচার হচ্ছে। তবে জামায়াত বলছে, এই বিচার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বালির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, এ ঘটনায় যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়ার সততা বা ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বালির জীবন বাঁচাতে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চেয়েছে এই সংগঠনটি।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।