রায় ঘোষণার পর কুমিল্লায় শিবিরের সড়ক অবরোধ; ভাংচুর, আটক ২৪

জামায়াতের ডাকা সারাদেশে সোমবারের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলাকালে জেলার একাধিক স্থানে পুলিশের সঙ্গে পিকেটারদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রায় ঘোষণার পর দুপুর তিনটায় রায়কে প্রত্যাখান করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঝাগুরঝুলি বিশ্বরোডে ইট ফেলে রাস্তা অবরোধ করে এবং লাকসামে ফয়েগঞ্জ, মনোহরগঞ্জের লদুয়ায় কয়েক হাজার  শিবির কর্মী কয়েক ঘন্টা রাস্তা অবরোধ করে রাখে। এসময় তারা কমপক্ষে ১০টি ভাংচুর করে। পরে পুলিশ এসে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করলে ছত্রভঙ্গ হয়ে শিবির কর্মীরা পালিয়ে যায়। পরে কয়েকঘন্টা পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

সহিংসতা ঠেকাতে চৌদ্দগ্রাম সদরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) প্রায় তিন প্লাটুন (৪ গাড়ি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আটক হয়েছে ২৪ জামায়াত-শিবির কর্মী।

সকালে চৌদ্দগ্রামে জামায়াত-শিবির কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের একাধিকবার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় প্রায় ১৫ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পুলিশ। সকাল সোয়া ৬টায় চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ফাল্গুনকরা এলাকায় পিকেটাররা পাঁচটি কাভার্ডভ্যান ও ট্রাকের গ্লাস ভাঙচুর করে। সেখানেও পিকেটারদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ফের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সকাল সোয়া ৮টায় শহরে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

কুমিল্লা-১০ বিজিবির অধিনায়ক মাহমুদ বিজিবি মোতায়েনের বিষয়টি  নিশ্চিত করেছেন।

তিন প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনের কথা নিশ্চিত করে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) আকুল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, সকালে জামায়াত-শিবির কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় প্রায় ১০ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে হরতাল চলাকালে কুমিল্লা নগরীর জাঙ্গালিয়া এলাকায় জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা প্রায় ২০টি  ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ  প্রায় ২৫ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল সাড়ে ৬টায় জাঙ্গালিয়া এলাকায় পিকেটাররা টায়ার জ্বালিয়ে হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এসময় তারা প্রায় ২০টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে।

পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে পিকেটারদের সঙ্গে তাদের একাধিকবার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একপর্যায়ে পুলিশ প্রায় ২৫ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। তবে এ ঘটনায় কেউ আহত হয়েছে বলে জানা যায়নি।

ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সকাল ৬টায় বুড়িচং উপজেলার সৈয়দপুরে হরতালের সমর্থনে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা মিছিল বের করে। এসময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়।

বুড়িচং থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় কেউ আহত বা আটক হয়নি।

দেবিদ্বার উপজেলার ইউসুফপুর এলাকায় পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চার রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছোড়ে এবং ছয় জামায়াত-শিবির কর্মীকে আটক করেছে।

সোমবার সকাল সাড়ে ৬টায় এ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও আটকের ঘটনা ঘটে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আটকদের পরিচয় জানা যায়নি।

 

হরতালে পিকেটিং করার সময় জেলার দেবিদ্বার, লাকসাম, মনোহরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে এ পর্যন্ত মোট ২৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ কন্ট্রোল রুম জানায়, লাকসাম উপজেলা থেকে সাতজন, মনোহরগঞ্জ উপজেলার নাথেরপেটুয়া এলাকা থেকে ছয়জন ও দেবিদ্বার উপজেলা থেকে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের কোন এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে তা জানায়নি পুলিশ।

উল্লেখ্য, সোমবার যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতের সাবেক আমীর গোলাম আযমের রায় ঘোষণার দিন ধার্য করার প্রতিবাদে এ হরতাল ডেকেছে দলটি।

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।