লবণের কেনা ৩ টাকা বিক্রি ৩৫ টাকায়!

প্রান্তিক লবণ চাষিদের ঘাম শ্রমে উৎপাদিত লবণের লাভের ফায়দাটা একচেটিয়া লুটেন লবণ সিন্ডিকেট। প্রান্তিক চাষিদের সামান্য দাদন দিয়ে মজুদ করেন সারাবছরের উৎপাদন। অবিশ্বাস্য সত্য যে, মুনাফালোভী এই লবণ সিন্ডিকেট মৌসুমে প্রান্তিক চাষিদের দেন মাত্র কেজিপ্রতি ৫ টাকা। আর লবণ মিল মালিকদের কাছে বিক্রি করেন ৭-১০ টাকায়। খুচরা বাজার পর্যন্ত পৌঁছাতে প্যাকেটজাত লবণের দাম পড়ে ৩২-৩৫ টাকা।
লবণ উৎপাদনে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও একদিকে সিন্ডিকেট গলা কাটে উৎপাদক চাষিদের। অন্যদিকে সিন্ডিকেটের মুনাফার বলি হন খুচরা ক্রেতা। প্রয়োজনহীন হওয়ার পরেও প্রান্তিক চাষিদের আরেক দফা গলা কাটতে আমদানি করা হচ্ছে শুল্ক ফাঁকির আন্ডার ইনভয়েসের ২ লাখ টন লবণ। কিছুদিন আগে গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে শুল্ক ফাঁকি, আন্ডার ইনভয়েস ও হুন্ডির তথ্য প্রকাশিত হলে লবণ সিন্ডিকেট ট্যারিফ কমিশন, বাণিজ্য ও অর্থ মন্ত্রণালয়কে মোটা অঙ্কের লেনদেনে ম্যানেজ করে।

বিষয়টি ধামাচাপা দিতে সরকারি উচ্চ মহলকে প্রভাবিত করা হয় লবণের দাম কেজিপ্রতি ৩ টাকা কমিয়ে। লবণ শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা জানান, ৩ টাকা দাম কমানোর ফলে কেজিপ্রতি একচেটিয়া ১২ টাকা মুনাফা হ্রাস পেয়ে দাঁড়ায় ৯ টাকায়। এই ঘাটতি পোষাতেই চলতি মৌসুমে উৎপাদক-প্রান্তিক চাষিদের বাধ্য করা হচ্ছে ২-৩ টাকা কেজিতে লবণ বিক্রির দাদন নিতে।

কক্সবাজারে উৎপাদিত হয় দেশের লবণের সিংহভাগ। উৎপাদক এলাকা থেকে কেনা অপরিশোধিত লবণ এখন উৎপাদক কক্সবাজারেই প্যাকেটজাত হয়ে বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩২ টাকায়।
উৎপাদকরা জানান, লবণের ন্যায্যমূল্য না পেলে ভবিষ্যতে উৎপাদনের আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন তারা। তখন লবণ হয়ে পড়বে পুরোপুরি আমদানি নির্ভর এক শিল্প। সেই সঙ্গে বেকার হবেন লবণ শিল্পের সঙ্গে জড়িত প্রায় ১০ লাখ শ্রমজীবী। তারা লবণ শিল্পকে সিন্ডিকেটের হাত থেকে রার জোর দাবি জানিয়ে আশু সরকারি হস্তপে কামনা করেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।