গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ

মঙ্গলবার দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের দুই গ্রুপের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর আগে সকাল থেকেই গণজাগরণ মঞ্চের একটি অংশ থেকে সরকার বিরোধী স্লোগান দেয়া হয়। এতদিন কেবল যুদ্ধাপরাধী ও জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেয়া হলেও এই প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেয়া হলো।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, হরতালকে কেন্দ্র করে প্রগতিশীল বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও গণজাগরণ মঞ্চের কয়েকটি বাম সংগঠনের কর্মীরা শাহবাগ চৌরাস্ত্মায় গাড়ি ভাঙচুর করার প্রস্তুতি নেয়। এসময় গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী মেজবাহ ও শিমুল তাদেরকে মৌখিকভাবে বাধা দেয়। এতে উত্তেজিত হয়ে বাম সংগঠনের তিনজন কর্মী মেজবাহ ও শিমুলকে জুতা পেটা করে। এ সময় প্রজন্ম চত্তরে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে হামলাকারীদের নাম জানা যায়নি।

এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু শিমুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রলীগের ক্যাডারকে ফোন করে ডেকে আনলে আবারো উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সংঘর্ষের ঘটনা। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

এদিকে জামায়াত নেতা গোলাম আযমের সর্বোচ্চ শাত্মির দাবিতে মঙ্গলবার দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে গণজাগরণ মঞ্চে আন্দোলনরত ১০ ছাত্র সংগঠন। হরতালের সমর্থনে সকালে রাজধানীতে মিছিল বের করে আন্দোলনকারীরা। এসময় পুলিশ বাধা দিলে তারা পুলিশের ওপর চড়াও হয়।

গতকাল সোমবার জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের ৯০ বছরের কারাদণ্ডের রায় প্রত্যাখ্যান করে আবারো শাহবাগে অবস্থান নেয় আন্দোলনরত গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা। এসময় বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুর করে তারা।
উল্লেখ্য, মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হলে গত ৫ ফেব্রুয়ারি শাহবাগে অবস্থান নেয় প্রগতিশীল বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। এরপর থেকেই শাহবাগসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তারা সভা-সমাবেশ করে আসছে।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।