ফেনীতে জামায়াতের হরতালে বেপরোয়া গাড়ী ভাংচুর আগুন কোটি টাকার ক্ষতি

সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ঘোষনার প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামীর ডাকা সোমবার সকাল-সন্ধ্যা হরতালে ফেনীতে অর্ধশতাধিক গাড়ী ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে পিকেটাররা। দুপুরে গোলাম আযমের রায় ঘোষনার পর দলীয় কর্মীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে। এদের আক্রমন থেকে রক্ষা পায়নি এম্বুলেন্স ও ঔষধ বহনকারী গাড়িও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। দিনভর পুলিশ-পিকেটার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগে জেলার সর্বত্র আতংক ও উদ্বেগ-উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। চলতি সময়ে ব্যবসা-বানিজ্যের মৌসুম হলেও একদিকে যেমন স্থবিরতা নেমে আসে অন্যদিকে জনদূর্ভোগ চরমে পৌছে।
পুলিশ ও দলীয় সূত্র জানায়, সোমবার ভোর থেকেই শহর ছাড়াও জেলার বিভিন্ন স্পটে অবস্থান নেয় জামায়াত-শিবির কর্মীরা। ভোর সাড়ে ৫ টার দিকে সদর উপজেলা ফাজিলপুর ওয়ালিয়া মাদরাসা রোডে পিকেটাররা ১ টি বাস, ৯ টি ট্রাক ভাংচুর করে। একই সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের স্টার লাইন ফিলিং ষ্টেশনের সামনে ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়। পৌনে ৯ টার দিকে আদালত পাড়া সংলগ্ন সড়কে গাছের গুড়ি ফেলে, ট্রায়ারে আগুন দিয়ে অবরোধ করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ধাওয়া করলে পিকেটাররা পালিয়ে যায়। সাড়ে ৯ টার দিকে এসএসকে রোডের পুরাতন পুলিশ কোয়ার্টার সংলগ্ন সড়ক অবরোধ করে অটো রিক্সা ভাংচুর করে। ১০ টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন সড়কে শুয়ে প্রায় আধঘন্টা অবরোধ করে হরতাল সমর্থকরা। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও পিকেটারদের মারমুখী অবস্থানের ফলে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করতে দেখা গেছে। এর কিছুক্ষন আগে মহাসড়কের ফতেহপুরে কাভার্ড ভ্যানে আগুন দেয় জামায়াত-শিবির কর্মীরা। সাড়ে ১০ টার দিকে ফেনী বড় জামে মসজিদের সামনে সিএনজি অটো রিক্সা ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে তারা পালিয়ে যায়। সাড়ে ১১ টার দিকে রেজিষ্ট্রি অফিস সংলগ্ন সড়কে সিএনজি ট্যাক্সি ভাংচুর করে। ১২ টার দিকে খাজুরিয়া রাস্তার মাথায় রিক্সায় আগুন ধরিয়ে দেয় হরতাল সমর্থকরা। একই সময় ট্রাংক রোডের বাঁশপাড়া রাস্তার মাথায় দুটি সিএনজি ট্যাক্সি ভাংচুর করে।

এর কিছুক্ষন পর ইসলামপুর রোডের মাথায় অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করে। পুলিশ আসার আগেই হরতাল সমর্থকরা পিছু হটে। সকাল থেকে থেমে থেমে ভাংচুর চালালেও রায় ঘোষনার পর দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী বাইপাস অংশের পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন স্থানে সংঘবদ্ধ হয় জামায়াত-শিবির কর্মীরা। এসময় ৬-৭ টি কাভার্ডভ্যানে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে মোবাইল ফোন, কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ সহ প্রায় ১ কোটি টাকার মালামাল ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্তদের দাবী। একই সময় ফেনী বড় জামে মসজিদের সামনে আরো একটি সিএনজি ট্যাক্সি ভাংচুর শেষে আগুন ধরিয়ে দেয় হরতাল সমর্থকরা। খাজুরিয়া রাস্তার মাথায় ২ টি সিএনজি ট্যাক্সি ও ২ টি অটো রিক্সা ভাংচুর করা হয়। হরতাল চলাকালে শহর থেকে মো: রফিক (২২) ও আশরাফ (২৫) কে আটক করেছে।

ওইদিন বিকালে মঙ্গলবার হরতালের ঘোষনা আসলে বিভিন্ন স্থানে গাড়ীতে বিচ্ছিন্ন হামলা চালায় জামায়াত-শিবির কর্মীরা। সন্ধ্যায় ট্রাংক রোডের খেজুর চত্ত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে জামায়াতে ইসলামী। মিছিলটি এসএসকে সড়কের ইসলামপুর রোডের মাথায় যাওয়া মাত্রই নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে বেপরোয়া গাড়ী ভাংচুর চালায়। তাদের হামলায় অর্ধশতাধিক গাড়ীর পাশাপাশি ফেনী সেন্ট্রাল হাসপাতালের এম্ব্যুলেন্স, হেলথ্ কেয়ার ডিস্ট্রিবিউশনের ওষধ বহনকারী গাড়ি ও কর আদায়কারী মূসক এর গাড়ীও কবলে পড়ে।
পুলিশ সূত্র জানায়, হরতাল চলাকালে বিশৃঙ্খলা এড়াতে ৫ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ১ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।