লস্করহাট এস.সি.লাহা উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

ফেনী সদর উপজেলার মোটবী ইউনিয়নের লস্করহাট এস.সি.লাহা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছাদ্দেক আলীর বিরুদ্ধে ব্যাপক ভাবে স্কুলের অর্থ আত্মসাৎ, স্বেচ্ছাচারিতা ও প্রতিষ্ঠানের সম্পদ নষ্ট করা সহ নানা অভিযোগ দিয়েছে এলাবাসী ও অভিভাবকরা। অভিযোগের আলোকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এলাকাবাসী, অভিভাবক ও অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, গত বছরের এপ্রিল মাসের শুরুতে নিয়োগ কর্তৃপক্ষ নানা অনিয়মের মাধ্যমে স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন মোছাদ্দেক আলীকে। নিয়োগ প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়ে ফেনী থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন মিডিয়াতে অনিয়মের খবর প্রকাশ হলে কর্তৃপক্ষ নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করে। পরে কৌশলে ঘুরে ফিরে মোছাদ্দেক আলীকেই বানানো হয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক। নিয়োগ পেয়েই মান সম্মান ও নীতি নৈতিকতাকে বিসর্জন দিয়ে শুরু তার স্বেচ্ছাচারিতা। অভিযোগে আরো জানানো হয় যে, প্রধান শিক্ষক তার যাবতীয় অনিয়ম জায়েজ করার জন্য তার অনুগতদের দিয়ে একটি এডহক কমিটি গঠন করা হয়। এছাড়াও তিনি কমিটির অনুমোদন ছাড়া স্কুলের জায়গায় তার ভাই জাহাঙ্গীরকে দোকানঘর তৈরী করে দেন। একই ভাবে তার নিকট আত্বীয়কে নাম মাত্র ১৫ হাজার টাকায় ২ বছরের জন্য স্কুলের পুকুরটি লিজ দিয়েছেন তিনি। কারো সাথে আলোচনা না করে স্কুলের একটি ভবন ভেঙ্গে স্কুলের ফান্ড থেকে প্রায় ২ লাখ টাকা খরচ দেখান। পরিত্যাক্ত প্রায় ১ লাখ টাকার রড় নাম মাত্র উম্মুক্ত টেন্ডার দিয়ে ৪০ হাজার টাকায় তার এক আত্বীয়ের কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়। এখানেই শেষ নয় এই প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম। তার অনুগত মহিলা শিক্ষক চার মাস স্কুলের অনুপস্থিত থাকার পর তাকে বাডি থেকে ডেকে এনে একই দিন ৪ মাসের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর নেন। মোটা অংকের টাকার বিনিময় ওই মহিলা শিক্ষককে তিনি অনিয়মের মাধ্যমে ৪ মাসের বেতন পাইয়ে দেন। এছাড়াও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুলের গাছ বিক্রি করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
অর্ভিযোগে আরও জানা যায়, জেএসসি পরীক্ষায় তিনি ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে অডিটকালে বিল ভাউচার উপস্থাপন করেন। অডিট কর্তৃপক্ষ এ বিলকে  অ-যৌক্তিক ও যথার্থ নয় বলে রিপোর্টে মন্তব্য করেন। অডিট হিসাব মতে দেখা যায়, স্কুলের উদ্বুত্ব বাবত ৭৪ হাজার ৬শ ৫৬ টাকা রয়েছে। উল্লেখিত টাকার স্থলে কিভাবে ১ লাখ টাকা স্কুলের নামে এফডিআর দেখানো হয়েছে এটিও কারো বোধগম্য নয়। অডিটে প্রধান শিক্ষকের নিয়োগের পর থেকে নির্মাণ ও মেরামত কাজের খাতওয়ারী ভাউচার সংরক্ষণে বিচ্যুতি ঘটেছে বলে জানানো হয়। এছাড়াও তার নামে বিভিন্ন কল্পিত অযুহাত দেখিয়ে স্কুলে না যাওয়ার অভিযোগ অভিভাবকদের।
এব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুল আমিন জানান, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শকের নির্দেশ মোতাবেক অনীত অভিযোগের তদন্ত চলছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ হলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।