গাড়ি ভাঙচুর করে রায় পরিবর্তন করা যাবে না: ট্রাইব্যুনাল

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে রাজনৈতিক বলে সমালোচনায় আপত্তি জানিয়ে দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, রায় প্রত্যাখ্যানের সুযোগ নেই। গাড়ি ভাঙচুর করে রায় পরিবর্তন করা যাবে না।
বুধবার দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান জামায়াত নেতা মুজাহিদের রায় ঘোষণার আগে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, যেদিনই রায় দেয়া হয়, সেদিনই একটি রাজনৈতিক দল হরতাল আহ্বান করে। আর এ হরতালের দোহাই দিয়ে আসামিপক্ষের সিনিয়র আইনজীবীরা ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত থাকেন না। জুনিয়র আইনজীবী পাঠিয়ে রায় সংগ্রহ করেন।

দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বলেন, এ রায় দেয়ার পর যাদেরই পক্ষে না যায়, তারা হরতাল আহ্বান করে। এটা এক ভিন্ন সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে।

এ সময় সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘রায় প্রত্যাখ্যানের সুযোগ নেই। এটা আদালত অবমাননার শামিল। তবে কেউ অখুশি হয়ে থাকলে আপিলে যাওয়ার সুযোগ আছে। গাড়ি ভাঙচুর করে রায় পরিবর্তনের সুযোগ নেই।’

রায়ের বিষয়ে নিজেদের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা প্রসঙ্গে ওবায়দুল হাসান বলেন, ‘সুপ্রিমকোর্টের বিচারক হিসেবে আমরা শপথ নিয়েছি। আল্লাহকে হাজির-নাজির যেনে রায় দিচ্ছি।’

ট্রাইব্যুনালকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেককে টকশোতে রায় না পড়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করতে দেখি। ট্রাইব্যুনালকে পলিটিকাল মোটিভেটেডও বলা হয়।’

এ সময় তিনি বলেন, ‘বিচারকদের দুর্বলতা তারা সাধারণ মানুষের মতো নিজেদের কথা বলতে পারেন না। তবে এটা মনে রাখা দরকার, আদালতের হাত অনেক লম্বা। যে যত বড় ক্ষমতাশালী হোক না কেন তাদের বিচারের আওতায় আনার ক্ষমতা আদালতের আছে।’

বুধবার সকাল ১০টা ৪৭মিনিটের দিকে বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যদের ট্রাইব্যুনাল এজলাসে আসন গ্রহণ করেন।

এর আগে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে জামায়াত নেতা মুজাহিদকে এজলাসে নেয়া হয়। এজলাস কক্ষে তার সামনের বেঞ্চে তিন ছেলে আলী আহমেদ তাজদীদ, আলী আহমেদ তাহকিক ও আলী আহমেদ মাবরুর বসা আছেন।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।