জামায়াত সেক্রেটারী মুজাহিদকে ফাঁসির আদেশ

মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটি প্রমাণিত হওয়ায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বুধবার চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, বিচারপতি মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারক শাহিনুর ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এ রায় দেন।

জামায়াত নেতা মুজাহিদের বিরুদ্ধে আনিত সাতটি অভিযোগের মধ্যে ১নং, ৩নং ৫নং, ৬নং এবং ৭নং অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল এ রায় দেন। ২নং অভিযোগ প্রমাণে প্রসিকিউশন ব্যর্থ হয়। আর ৪নং অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

ট্রাইব্যুনাল মুজাহিদকে ৬নং ও ৭নং অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

ষষ্ঠ অভিযোগে সেনাবাহিনী ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ গ্রহণসহ অপরাধজনক নানা কর্যক্রম, নিয়মিত যাতায়াত, ঊর্ধ্বতন সেনা অফিসারের সঙ্গে স্বাধীনতাবিরোধী নানা অপরাধের পরামর্শ ও ষড়যন্ত্র এবং ১০ ডিসেম্বর থেকে পরিচালিত বুদ্ধিজীবী নিধন অভিযানসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

সপ্তম অভিযোগে মুজাহিদের নির্দেশে রাজাকার বাহিনীর ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার বকচর গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ করে কয়েক জনকে আটক ও ঝুমা রানীকে ধর্ষণ, আটক হিন্দু নাগরিকদের হত্যা করে, বাড়িঘরে আগুন দেয়া এবং অনিল সাহাকে দেশ ত্যাগে বাধ্য করার ঘটনায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

এ রায়ের মধ্যদিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত করে ছয়টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। এর আগে উভয় ট্রাইব্যুনাল থেকে পাঁচটি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনালে তিনটি এবং প্রথম ট্রাইব্যুনালে দুটি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।

গত ৫ জুন মুজাহিদের মামলার চূড়ান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রেখে দেন।

মুজাহিদের পক্ষে তার প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকসহ আইনজীবীরা গত ৪ জুন তাদের যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন।

এর আগে গত ৭ মে থেকে ১৬ মে পর্যন্ত মোট চারদিন রাষ্ট্রপক্ষ মুজাহিদের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। এরপর আসামিপক্ষে সৈয়দ মিজানুর রহমান ও মুন্সি আহসান কবির যুক্তি উপস্থাপন করেন।

আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৬ আগস্ট শাহরিয়ার কবির দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এরপর এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাকসহ মোট ১৭ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।

অপরদিকে মুজাহিদের পক্ষে প্রথম এবং একমাত্র সাফাই স্বাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তার ছোট ছেলে আলী আহমেদ মাবরুর।

গত ২২ এপ্রিল প্রসিকিউশনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলে আসামিপক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ৫ মে দিন ধার্য করে দেন ট্রাইব্যুনাল।

গত বছরের ২১ জুন মুজাহিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ৭টি ঘটনায় ৩৪টি অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর ১৯ জুলাই ট্রাইব্যুনালে ২৯ পৃষ্ঠার ওপেনিং স্টেটমেন্ট (সূচনা বক্তব্য) উত্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপুসহ প্রসিকউশনের সদস্যরা।

গত ২০১০ সালের ২৯ জুন একটি মামলায় মুজাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই বছরের ২আগস্ট এক আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।