টেকনাফে কাঁচাকলা ব্যবসায়ীরা বিষাক্ত ক্যামিকেল মিশিয়ে পাকাচ্ছে কলা

কাঁচা কলায় বিষাক্ত ক্যামিকেল মিশিয়ে টেকনাফে ব্যবসায়ীরা কলা পাকাচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাহে রমজানে কলার প্রচুর চাহিদার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এবং প্রশাসনের নজরদারির অভাবে অসাধু কলা ব্যবসায়ীরা এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ কলাকে পুষ্টিকর ফল বলে গন্য করলেও মানুষ কলার সঙ্গে খাচ্ছে বিষ। অবশ্য টেকনাফের নিবার্হী ম্যাজিস্ট্যেট ও সহকারী কমিশনার ভূমি সেলিনা কাজী ১৫ জুলাই রাতে এ প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে বলেন-শীঘ্রই এ ব্যাপারে অভিযান চালানো হবে। জানা যায়- টেকনাফ উপজেলার পৌরসভা, হোয়াইক্যং, হ্নীলা, বাহারছড়া, সাবরাং,শাহপরীরদ্বীপ, সেন্টমার্টিনদ্বীপ, টেকনাফ সদরসহ বিভিন্ন কলার আড়তে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কার্বাইড ও বিভিন্ন প্রকার রায়সানিক দ্রব্য মিশ্রিত ক্যামিকেল মেশানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষ মেশানো কলা যারা খাচ্ছে, তাদের জটিল রোগ হবে বলে আশংকা করছেন সচেতন মহল ।
১৫ জুলাই সরজমিন বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়- কাঁচা কলাতে ক্যামিকেল মিশানোর দৃশ্য। অসাধু এক শ্রেনীর কলা ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফার জন্য কলাতে বিষ মিশিয়ে এ ব্যবসা করে যাচ্ছেন । ব্যবসায়ীরা কলার আড়তের সামনে শতাধিক  কলার ছড়া  রাখলেও পর্দার আড়ালে থাকে বাকী সমস্ত কাঁচা কলা ও বিষাক্ত পানি মেশানোর ড্রাম। দেশের বিভিন্ন অঞল থেকে আনা এসব কাঁচাকলা পাকিয়ে তাড়াতাড়ি  বিক্রি করতে বিষাক্ত এ পানি মিশিয়ে কলা পাকানো হয় । যে সমস্ত ক্রেতাদের জরুরী ভিত্তিতে পাঁকা কলার প্রয়োজন হয় তারা বিষাক্ত এ পানি মেশানো ড্রাম ভর্তি পানিতে ডুবিয়ে কলা বিক্রি করা হয়। বিষাক্ত এ পানিতে কলা ভিজিয়ে নিলে অল্প সময়ে লাল হয়ে যায় কলার রং। এতে কম সময়ের মধ্যে সাধারণ ক্রেতাদের এ কলা বিক্রি করা যায়। প্রতিদিন কলা ব্যবসায়ীরা এভাবে হাজার হাজার কলাতে বিষাক্ত পানি মিশিয়ে কলা বিক্রি করে যাচ্ছে। আর এসব কলা খাচ্ছে সাধারণ মানুষ।অলিয়াবাদের কয়েকজন পুরাতন কলা ব্যবসায়ী জানান- কলাতে বিষাক্ত পানি মেশানো হয় তা আগে জানলে কোনদিন ও কলা খেতাম না। প্রকাশ্যে ক্যামিকেল মিশিয়ে প্রতিদিন  দিনের বেলায় অবাধে অপকর্ম   চালিয়ে আসলেও প্রশাসনের কোন খবরদারি নেই। অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন বিষাক্ত পানি মিশানো কলা পেটে গেলে ক্যান্সারসহ লিভার, কিডনী ও পাকস্থলীর সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের জন্য এসব কলা মারাত্বক ক্ষতিকর বলে তাঁরা মনে করেন। সংশ্লি¬ষ্ট সূত্র জানায় বিএসটিআই হচ্ছে খাদ্যের মান পরীক্ষা করার একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান । অর্ডিন্যান্স ১৯৮৫ অনুযায়ী বিএসটিআই বাজারে সব পন্য  দেখা শুনা করবে। কিন্তু সীমান্ত শহর টেকনাফে কোন ধরণের তদারকি না থাকার ফলে ইচ্ছামতো বিক্রি হয় নানান পন্য। তাই কাচাঁ কলাকে পাঁকা করতে বিশেষ কারবাইড ব্যবহার করতেও কোন ভয়ভীতি নেই অসাধু এসব ব্যবসায়ীদের। দীর্ঘদিন ধরে টেকনাফে কাঁচাকলাকে বিষাক্ত পানি মিশিয়ে পাকালেও কারো কোন খবর নেই ।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।