নাঙ্গলকোটে যৌতুকের দাবীতে গৃহবধুকে পুড়িয়ে হত্যা

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের বাঙ্গড্ডা ইউপির  শ্যামপুর গ্রামে এক গৃহবধুকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে পাষন্ড স্বামী।  গৃহবধুর নাম    নুরুন নাহার মনি। সে ওই গ্রামের মহিউদ্দিন মোল্লার মেয়ে । নাঙ্গলকোট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) স্বপন কুমার নাথ জানিয়েছে,  বিগত ৫ বছর পূর্বে শ্যামপুর গ্রামের মৃত আবুল কালাম মোল্লার ছেলে আবদুল কুদ্দুছ তুহিনকে ভালোবেসে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে মনি। তাদের সংসারে মিথুন নামের ৩ বছর বয়সী একটি শিশুপুত্র রয়েছে।  প্রায় ২ বছর তাদের দাম্পত্য জীবণ সুখেরই ছিল । এরপর হঠাৎ মনির জীবণে নেমে আসে যৌতুক নামের কালো মেঘের ছায়া। মনির গার্মেন্টসকর্মী  স্বামী কুদ্দুছ যৌতুকের দাবীতে নানা সময় তাকে শারীরিক নির্যাতন চালাত। এরই একপর্যায়ে গত ১০ জুলাই রাতে মনিকে শারীরিক নির্যাতন করে তার স্বামী ও শশুর বাড়ীর লোকজন। প্রচন্ড মারধরের পর মনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তার গায়ে কেরসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং তাকে পুকুরের পানিতে নিক্ষেপ করে হত্যার চেষ্টা চালায়। তার আত্ম – চিৎকারে এলাকাবাসী এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়। চিকিৎসারত থেকেই গত মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর ঘাতকের পরিবারের হুমকির মুখে লাশ ময়না তদন্ত ছাড়াই গ্রামের বাড়ীতে নিয়ে আসে মনির পরিবার। গতকাল বুধবার নিহতের ভাই আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে নাঙ্গলকোট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও একটি হত্যা মামলা দায়ের করে । পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠিয়েছে। এই ঘটনার পর তার স্বামী ও পরিবারের লোকজন আত্মগোপন করেছে। তবে পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।