জামায়াতের টানা চতুর্থ দিনের হরতালেও অবরোধ-ভাঙচুর-সংঘর্ষ

রায় ঘিরে জামায়াতে ইসলামীর ডাকা টানা চতুর্থ দিনের হরতাল সড়ক অবরোধ, গাড়িতে আগুন ও ভাঙচুর এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের মধ্যদিয়ে পালিত হচ্ছে।

দলের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ডের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার হরতাল ডাকে জামায়াত। এরআগে মুজাহিদের রায় ঘোষণার প্রতিবাদে বুধবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছিল জামায়াত। এছাড়া সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের রায় এবং ৯০ বছর কারাদণ্ডের প্রতিবাদে সোম ও মঙ্গলবারও হরতাল পালন করে দলটি।

বৃহস্পতিবার হরতাল সমর্থনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মিছিল ও পিকেটিং করে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

রাজধানীর ধলপুরে হরতাল সমর্থনে মিছিল বের করে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটনায় এবং একটি বাসে আগুন দেয়। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয়।

জজ কোর্ট এলাকায় ছাত্রশিবির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মিছিল থেকে পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে অন্তত তিনটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি।

হরতালে সকালের দিকে যান চলাচল কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর সংখ্যাও বাড়তে থাকে। তবে ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করতে দেখা যায়নি। ছেড়ে যায়নি দূরপাল্লার গাড়ি। ট্রেন ও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

হরতাল সমর্থনে সকাল ৭টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ সড়কের নারায়ণগঞ্জে কাশিপুর হাটখোলা এলাকায় শিবিরকর্মীরা ক্রাউন সিমেন্টের একটি ট্যাংক লরি আটক করে আগুন ধরিয়ে দেয়। আরো ২/৩টি গাড়িতে ঢিল ছুড়ে ভাঙচুর করে। পরে পুলিশ আসার খবর পেয়ে তারা পালিয়ে যায়।

ভোরে মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। রাস্তার ওপর গাছের ডালপালা ফেলে আগুণ জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে তারা। এ সময় সব ধরনে যান চলাচাল বন্ধ হয়ে যায়।

হরতাল সমর্থনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাসার সামনে রংপুর মহানগর ছাত্রশিবিরে পিকেটিং করে। এছাড়া নগরীর শাপলা চত্বর এলাকা থেকেও হরতাল সমর্থনে মিছিল বের করে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা।

রাজশাহীর পঞ্চবটিতে গাছের গুড়ি এবং ইটের টুকরা ফেলে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা। এ সময় পুলিশ ধাওয়া দিয়ে সেখান থেকে পাঁচজনকে আটক করে। খড়খড়ি এলাকায় কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে শিবিরকর্মীরা।

চট্টগ্রাম নগরীর পলোগ্রাউন্ড এলাকায় শিবিরের মিছিল থেকে একটি বাস ও অন্তত তিনটি সিএনজি অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয়। এসময় কয়েকটি ককটেলেরও বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

এছাড়া নগরীর বাকলিয়া থানার চামড়ার গুদাম এলাকায় একটি টেম্পুতে আগুন দিয়েছে শিবিরকর্মীরা। এ সময় আরও তিনটি টেম্পু ভাংচুর এবং কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

হরতালে বরিশালে বেশ কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা ১০/১২টি গাড়ি ভাঙচুর করে।

এছাড়া খুলনা, সিলেট, বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, লক্ষীপুর ও নাটোরসহ বিভিন্ন জেলায় হরতাল সমর্থনে মিছিল, সড়ক অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ এবং ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।