ট্রাইব্যুনালকে এবার ‘ট্রাবলড ডমেস্টিক কোর্ট’ বলল ইকোনমিস্ট

স্কাইপি সংলাপ প্রকাশ করে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে বিতর্ক ছড়িয়ে দেয়ার পর এবার ট্রাইব্যুনালকে ‘ট্রাবলড ডমেস্টিক কোর্ট বা সমস্যাগ্রস্ত দেশীয় আদালত’ বলে মন্তব্য করেছে দি ইকোনমিস্ট।
‘বাংলাদেশের রাজনীতি: জামায়াতের ভবিষ্যত’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রভাবশালী পত্রিকাটি এমন মন্তব্য করেছে।প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাইব্যুনালের রায় ঘিরে বাংলাদেশের প্রধান ইসলামী রাজনৈতিক দলের ওপর চাপ তীব্রতর হচ্ছে। যদিও দলটি এখনো নিষিদ্ধ হয়নি, তবে রাজনৈতিকভাবে ক্রমশই বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে দলটি।

এতে বলা হয়, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার রক্তাক্ত ঘটনায় নিজেদের ভূমিকার জন্য বিরোধী আরো দুজন প্রভাবশালী রাজনীতিককে সাজা দিয়েছে ‘ট্রাবলড ডমেস্টিক কোর্ট বা সমস্যাগ্রস্ত দেশীয় আদালত’ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

রাষ্ট্রপক্ষ পাকিস্তানপন্থী জামায়াতে ইসলামীর দীর্ঘ সময়ের আমির গোলাম আযমকে মুক্তিযুদ্ধের শেষ সময়ে বুদ্ধিজীবী হত্যাযজ্ঞে নেতৃত্বের ‘বাতিঘর’ বলে আখ্যায়িত করে। হত্যাযজ্ঞে সহায়তার জন্যই পাকিস্তানি সেনাদের পাশাপাশি জামায়াতের ছাত্রসংগঠনের মাধ্যমে একটি ডেথ স্কোয়াড গঠন করা হয়।

গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও হত্যার দায়ে গত ১৫ জুলাই গোলাম আযমকে ৯০ বছরের কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে বলা হয়, অপরাধ মৃত্যুদণ্ড দেয়ার মতো হলেও বয়স ও অসুস্থতা বিবেচনায় তা দেয়া হয়নি।

অবশ্য গোলাম আযমের আইনজীবীরা বলছেন, কেবল স্বাধীনতার বিরোধিতা করা কারণেই তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এর দুইদিন পরে জামায়াতের আরেক নেতা আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় দেয়া হয়। বিগত ২০০১ থেকে ২০০৬ সময়কার সরকারের আমলে মুজাহিদ সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ছিলেন। ১৯৭১ সালে গণহত্যা ও হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের কারণে তাকে ফাঁসি দেয়া হয়।

এতে বলা হয়, রায়ে বিস্ময়ের কিছু নেই এবং ফেব্রুয়ারিতে জামায়াতবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভে এছাড়া আর কিছুই দাবি করা হয়নি। তবে কয়েকজন নেতার রায়ের পর সহিংসতার কারণে রায় কেবল কিছুটা পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।

এরআগে পুলিশের সঙ্গে জামায়াত শিবির ও সমমনা ইসলামীদলগুলোর কর্মীদের সশস্ত্র সংঘর্ষে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। তবে ব্যাপক বিক্ষোভ ও হতাহতের ঘটনা স্বত্ত্বেও  ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবং রাজনীতিক বুদ্ধরা পরিস্থিতি রমজান মাসে তুলনামূলক শান্ত থাকবে বলেই আশা করছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ছয় মাস পর অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের আগ পর্যন্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরো অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকবে। পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দায়ী করছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি।

বিএনপি জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ। বিএনপি মনে করছে, দেশব্যাপী বিরোধী জোটকে ধ্বংস করতে জোটের শরিক জামায়াতকে নিশ্চিহ্ন করারই অংশ ত্রুটিপূর্ণ যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

সম্প্রতি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলটি জয় পেয়েছে। তবে জাতীয় নির্বাচন পরিচালনার জন্য দলটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি তুলছে এবং এর ব্যাতিক্রম হলে হরতাল এবং অবরোধের হুমকি দিচ্ছে। সামনের ছয় মাস আগের চেয়ে স্থিতিশীল হবে না।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।