বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর 2, 2021
বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর 2, 2021
বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর 2, 2021
spot_img
Homeরাজনীতিঈদের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে পুনর্বহালে ফের আল্টিমেটাম

ঈদের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে পুনর্বহালে ফের আল্টিমেটাম

বিএনপি নির্বাচন নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রশ্নে আগের অবস্থানেই রয়েছে । তারা দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না। প্রয়োজনে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে রেখেছে। তবে এর আগে সরকারকে আরেকবার সুযোগ দিতে চায় দলটি। এরই অংশ হিসেবে ঈদুল ফিতরের পর বিএনপি সরকারকে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে পুনর্বহালে সময় বেঁধে দেবে। বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে সরকার তাদের দাবি মেনে না নিলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে দলটির নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন। অবশ্য বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নিজেও এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন।

সদ্য শেষ হওয়া সংসদের বাজেট অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচনের ঘোষণা দিলে তা নাকচ করেন খালেদা জিয়া। তিনি দাবি আদায়ে ঈদুল ফিতরের পর বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার কথা বলেন।

আর দল এবং জোটে সেভাবেই প্রস্তুতি চলছে বলে বিএনপির একাধিক জেষ্ঠ্য নেতা আরটিএনএন- কে জানিয়েছেন। তারা বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার দাবি মেনে নিতে ঈদের পরে সরকারকে আবারো সময় বেঁধে দেয়া হবে।’

সূত্র জানায়, ঈদের পরপরই ঢাকায় ১৮ দল একটি জনসভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেখান থেকে জোটনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তত্ত্বাবধায়ক দাবি আদায়ে ফের সরকারকে ৩০ দিন সময় বেঁধে দিবেন। একই সময়ে ঢাকার বাইরে দাবি ও নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে ১০টি স্থানে জনসভা করে জনমত গঠন  করবে ১৮ দল।

বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে দাবি মানা না হলে হরতাল-অবরোধসহ লাগাতার অসহযোগ কর্মসূচি দেয়ার চিন্তা-ভাবনাও রয়েছে বিরোধী জোটের।

জানা গেছে, ঈদের পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকে দলের আন্দোলনের কর্ম-কৌশল ঠিক করবেন বেগম খালেদা জিয়া। যদিও সম্ভাব্য কর্ম-কৌশল নিয়ে ইতোমধ্যে তিনি দলের আস্থাভাজন নেতাদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করেছেন।

আগামী দিনের আন্দোলন নিয়ে খুবই সাবধানে পা বাড়াচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া। আন্দোলন করতে গিয়ে কোনোভাবেই যেন জনপ্রিয়তায় ধস না নামে সেদিকে তিনি বেশি নজর রাখছেন।

সূত্রের দাবি, চূড়ান্ত আন্দোলনের ফর্মুলা নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া ইতোমধ্যে দলের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির নেতাদের মতামত নিয়েছেন। এছাড়া আন্দোলনে যাতে সরকারের ভিত কাঁপিয়ে দেয়া যায় সেজন্য জোটের শরিক দলের সঙ্গেও তিনি আলোচনা করছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য আরটিএনএন- কে বলেন, ‘৩০ দিনের  আল্টিমেটামের পর দু-তিন ধাপে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হতে পারে। ওই সময়ের মধ্যে  দাবি না মানলে ১৮ দলীয় জোটের ব্যানারে সর্বাত্মক আন্দোলনের ঘোষণা দেয়া হবে।’

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন আরটিএনএন- কে বলেন, ‘গত সাড়ে চার বছর দাবি আদায়ে সরকারকে আমরা অনেক সময় দিয়েছি। কিন্তু তারা আমাদের দাবির ব্যাপারে কর্ণপাত করেনি।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট- নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া নির্বাচনে যাবে না। সুতরাং এই দাবি আদায়ে বিএনপি সব করবে। আর তা ঈদের পর থেকেই শুরু হবে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান আরটিএনএন-কে বলেন, ‘ঈদের পর চূড়ান্ত আন্দোলনে যাওয়ার প্রস্তুতি বিএনপির রয়েছে। নেতাকর্মীরা এখন অনেক বেশি উজ্জীবিত। দাবি আদায়ে ঈদের পর কঠোর  আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এবারের আন্দোলন হবে চূড়ান্ত। নিশ্চয়ই তাতে  টানা হরতাল, অবরোধ আর অসহযোগের মতো কঠোর কর্মসূচি থাকবে। দাবি আদায়ে সব ফর্মুলাই প্রয়োগ করা হবে।’


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments