শুক্রবার, অক্টোবর 22, 2021
শুক্রবার, অক্টোবর 22, 2021
শুক্রবার, অক্টোবর 22, 2021
spot_img
Homeজেলাঝিনাইদহের শৈলকুপায় পাক বাহিনীর চেয়ে ভয়াবহ বর্বরতা

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় পাক বাহিনীর চেয়ে ভয়াবহ বর্বরতা

এক সময় পুকুর ভরা মাছ, গোয়াল ভরা গরু আর বেচে থাকার মতো অর্থবিত্ত ছিল। কিন্তু এখন প্রায় শাতাধিক পরিবারের বেচে থাকার কোন অবলম্বন নেই। নেই মাথা গোজার ঠায়। সম্পদ আর ঘরবাড়ি হারিয়ে আশ্রয়হীন মানুষগুলো পথে পথে ঘুরছে। নারী, শিশু ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা বাড়িঘরে উঠতে না পেরে মাঠে মাঠে রাত কাটাচ্ছে। ঝিনাইদহের সাধুখালী গ্রামে ফরেজ আলী মন্ডল নামে এক ব্যক্তির খুনের পর লুটপাট, বাড়ি ভাংচুর ও গ্রামে দলবাজীর কারণে চরম মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে। ভয়ে আতঙ্কে পুরুষ শূণ্য হয়ে পড়েছে গ্রাম। পুলিশের সহায়তার চলছে লুটপাট ও লাখ লাখ টাকার সম্পদ তছরুপের মহড়া।
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, গত ১১ জুলাই আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাধুখালি গ্রামে দু’দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ফরেজ মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। এ ঘটনায় নিহত ফরেজ মন্ডলের ভাই কুদ্দুস মন্ডল বাদি হয়ে শৈলকুপা থানায় ৭৮ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় সমাজিকদলে বিভক্ত মামলার আসামী ও ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামবাসিদের বেশির ভাগ বিএনপি সমর্থিত পরিবার। ফলে ঘটনার ১২ দিন অতিবাহিত হলেও লুটপাট ও ঘারবাড়ি ভাংচুরের ঘটনা থেমে নেই। সাধুখালী গ্রামের উকিল উদ্দীনের স্ত্রী চামেলী খাতুন অভিযোগ করেন, শৈলকুপা থানার এসআই আব্দুর রহিমের উপস্থিতিতে সরকারী দলের লোকজন গ্রামে ভাংচুর লুটপাট করছে। চামেলী খাতুন আরো জানান, তাদের পরিবারের কোটি টাকার সম্পদ লুটতরাজ করা হয়েছে। ৩৫ লাখ টাকার মুল্যবান গাছ ও পুকুরের বড়বড় রুই কাতলা মাছ লুট করা হয়েছে। ভিটের উপর দাড়িয়ে আছে ছিন্নভিন্ন অবকাঠামো। ওই গ্রামের হতদরিদ্র সালেহা খাতুন জানান, তার সাজানো সংসারটি তছনছ করে দেওয়া হয়েছে। সাধুখালী গ্রামের মুস্তাক মেম্বর, ইউনুস আলী, আলী হোসেন ও কালু তার বাড়ি লুটের নেতৃত্ব দেয় বলে তিনি অবিযোগ করেন। নিহত ফরেজ আলীর স্ত্রী ফুলজান বেগম আক্ষেপ করে বলেন, আমার স্বামীর হত্যাকান্ডকে পুজি করে যে পরিমান বিরোধী পক্ষের লোকজনের বাড়ি লুট করা হচ্ছে তা আমাকে দিলেও মনে স্বস্তি পেতাম। কিন্তু এই ভাংচুর ও লুটপাটের সঙ্গে তার পরিবারের কেও জড়িত নয় বলে ফুলজান দাবী করেন। গতকাল সোমবার সরেজমিন গ্রামটি ঘুরে দেখা গেছে এই বুঝি সুনামীর আঘাতে সাধুখালী গ্রামটি তছনছ হয়েছে। কিন্তু পরক্ষনেই বোঝা যায় মানুষ রুপি নরপশুদের আঘাতে লন্ডভন্ড হয়েছে নারী ও শিশুদের আশ্রয়স্থল। গ্রামে উপস্থিত শৈলকুপা থানার এসআই মেরাজ সাংবাদিকদের জানান, প্রতিপক্ষরা সাধুখালী গ্রামের ইকতিয়ার, শহিদুল মাস্টার, রবিউল মন্ডল,আমিরুল দর্জি, তোবারেক, ইউনুস, ওসুল মন্ডল, লতিফ মাস্টার জোনাব, মনির, বিপুল, কাশেম, লিটন, সানারুদ্দিন, রাজ্জাক, হবিবর মন্ডল, গহরমন্ডল, গোলাম খা, হালিম খা, আমিরুল খা, আলম খা, কোবাদ, আশরাফ, চয়ন আলী, মধু খাসহ প্রতিটি আসামীদের বাড়ি ভেঙ্গে মাটির সঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে অতি অসহায় বহু পরিবার রয়েছে যাদের ঘরবাড়ি নিশ্চি‎হ্ন করে দেওয়া হয়েছে। গতকাল সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের উপস্থিতিতেই ১০ গাড়ি মেহগনী গাছ শেখপাড়া বাজারে মোস্তাক মেম্বরের লোকজন বিক্রি করতে যায়। এ সময় পুলিশ লুটকৃত গাছগুলো জব্দ করে শৈলকুপা থানায় নিয়ে যায়। তবে গ্রামে লুটপাটকারী গ্রুপটি সাংবাদিক আসার কথা শুনে গা ঢাকা দেয়। ফলে তাদের কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। গ্রামবাসি অভিযোগ করেছে শৈলকুপা থানা পুলিশের রহস্যজনক নীরবতার কারণে গ্রামটিতে লুটপাট অব্যাহত রয়েছে। গ্রামে শিশু ও নারীরা ফিরলেই তাদের উপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। ইতিমেধ্য বেশ কয়েকজন মহিলার মেরে হাত ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, পুলিশ থাকার কারণে গ্রামটিতে এখন স্বভাবিক পরিবেশ বিরাজ করছে। তবে হত্যাকান্ডের পর ঘটে যাওয়া পরিস্থিতি মোবাবেলা করা পুলিশের পক্ষে সম্ভব ছিল না।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments