ট্যাঙ্ক ও বন্দুকের নলের সামনেই রাজপথজুড়ে লাখো মুরসি সমর্থকরা

শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুড কায়রোর ২৮ টি মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। ব্রাদারহুডের ডাকে সাড়া দিয়ে লাখ লাখ লোক এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে।

রাজপথে শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা চলাকালে সিক্স অক্টোবর ব্রিজসহ বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা বাহিনীর বাঁধার সম্মুখীন হন তারা। টিয়ার গ্যাস ছুড়েও পদযাত্রা থামিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে সেনা বাহিনী।

তবে সব ধরণের বাধা উপেক্ষা করে সমাবেশস্থলের দিকে এগিয়ে যায় বিক্ষোভকারীরা। এতক্ষণে রামসেস স্কয়ারে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন কয়েক লাখ মুরসি সমর্থক।

কায়রো ছাড়াও মিশরজুড়ে প্রায় সবগুলো প্রধান শহরেই সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভ প্রদর্শিত হচ্ছে।

অন্যদিকে মিশরের সেনাবাহিনী কায়রোসহ দেশজুড়ে নজির বিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা কায়েম করে। সেনা বাহিনী এক প্রকার যুদ্ধপ্রস্তুতি নিয়েই রাজপথে নামে। কায়রো ছাড়াও দেশের সবগুলো প্রধান শহরেই সেনা মোতায়েন করা হয়।

সেনাবাহিনী কায়রোর তাহরির স্কয়ারে প্রবেশের সবগুলো রাস্তাই বন্ধ করে দেয়। তাহরির স্কয়ারের আনোয়ার সাদাত মেট্রো রেল স্টেশনটিও বন্ধ করে দেয়া হয়।

এছাড়া রাবা আল আদাবিয়া চত্বরে প্রবেশের সবগুলো রাস্তাও বন্ধ করে দিয়েছে সেনাবাহিনী।

ফলে মুরসি সমর্থকরা কায়রোর রামসেস স্কয়ারে গিয়ে জড়ো হচ্ছেন। আল জাজিরার প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায় এখনো লাখ লাখ লোক রামসেস স্কয়ারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে সমগ্র কায়রো জুড়ে ভারি অস্ত্রশস্ত্র সজ্জিত করে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। সরকারি ভবনে হামলা চালানো হলে সেনা সদস্যদের সরাসরি গুলি করার আদেশ আগেই দিয়ে রেখেছে অন্তবর্তীকালীন সরকার।

মুসলিম ব্রাদরহুড শুক্রবার জুমার দিনকে ‘বিক্ষোভের দিন’ নাম দিয়ে এই কর্মসূচির ডাক দেয়। ২০১১ সালের জানুয়ারি বিপ্লবের সময়ও হোসনি মোবারকের বিরুদ্ধে ১৮ দিনের বিদ্রোহের একদিন ২৮ জানুয়ারিকেও একই নামে আখ্যায়িত করেছিল ব্রাদারহুড।

এদিকে বুধবারের দেশব্যাপি বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে এখন পর্যন্ত ৫৭৮ জন বেসামরিক নাগরিক ও  ৪৬ জন পুলিশ নিহত এবং ৩ হাজার ৫০০ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে মিশরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

অন্যদিকে মুসলিম ব্রাদারহুডের দাবি তাদের ২ হাজার ৬০০ সমর্থক নিহত হয়েছে।

শুক্রবারের বিক্ষোভের সময়ও দেশজুড়ে বিক্ষোভকারীদের উপর ইতোমধ্যেই নিরাপত্তাবাহিনীর কয়েকটি হামলার খবর পাওয়া গেছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।