সোমবার, অক্টোবর 18, 2021
সোমবার, অক্টোবর 18, 2021
সোমবার, অক্টোবর 18, 2021
spot_img
Homeজাতীয়মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যদি ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করা হলে, তা প্রতিহত...

মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যদি ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করা হলে, তা প্রতিহত করা হবে’: ফখরুল

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থেকে রাষ্ট্রীয় অর্থে দেশের বিভিন্ন স্থানে জনসভা করে নৌকার পক্ষে ভোট চেয়ে নিবাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করছেন বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা ফখরুল ।

রবিবার সকালে দলের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকদের কাছে এই সব কথা বলেন তিনি।

সম্প্রতি আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের বাসায় ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের বৈঠকের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সংবিধানে সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কি হবে- এ নিয়ে অস্পষ্টতা রেখে দেয়া হয়েছে। মেয়াদের পর আরো তিন মাস কিভাবে ক্ষমতায় থাকা যায়, এ নিয়ে সরকার নানা রকম চক্রান্ত শুরু করেছে।’

‘আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যদি ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করা হয়, জনগণ তা সহ্য করবে না, প্রতিহত করবে’ যোগ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

বিভিন্ন জেলায় প্রধানমন্ত্রীর ভোট প্রার্থনা সম্পর্কে দলের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের বিধি-বিধান লঙ্ঘন করে বিভিন্ন জায়গায় সরকারি খরচে জনসভা করে নৌকার পক্ষে ভোট চাচ্ছেন। এটা সম্পূর্ণভাবে আচরণ বিধির লঙ্ঘন।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ থেকে প্রমাণ হয়, বর্তমান সরকারের অধীনে কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। কারণ তারা নির্বাচনের আগেই বিধি-বিধান লঙ্ঘন করতে শুরু করেছেন।’

দেশের বর্তমান অবস্থাকে সংকটময় অভিহিত মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশে বর্তমান একটি স্বৈরাচারী সরকার জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছে। নির্দলীয় সরকারের বিধান সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বাতিল করে দিয়েছে তারা। জনগণের মতামতকে সরকার তোয়াক্কা করছে।’

তিনি দাবি করে বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, নির্দলীয় সরকার ছাড়া কোনো নির্বাচন দেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন মানুষ মেনে নেবে না, তা হতেও দেবে না।’

বহুদলীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকতা প্রদানে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান অবদানের কথা স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ একদলীয় শাসনের অন্ধকার থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের আলোর পথে এসেছে। উন্নয়নের অগ্রযাত্রার সোপানে পৌঁছেছে।’

‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়া দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন। আজ সেই গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়েছে। আজকে আমাদের দাবি একটিই- গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে একটি নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।’

রবিবার সকালে শেরেবাংলা নগরে জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছিলেন- দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, আ স ম হান্নান শাহ, মির্জা আব্বাস, ভাইস-চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, আবদুল্লাহ-আল নোমান, সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শাহজাহান ওমর, ওসমান ফারুক, শামসুজ্জামান দুদু, অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক, কেন্দ্রীয় নেতা আবুল খায়ের ভুঁইয়া, আবদুস সালাম, খায়রুল কবির খোকন, মাসুদ আহমেদ তালুকদার প্রমুখ।

এছাড়া দলের অঙ্গ সংগঠনের সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাইফুল আলম নিরব, আবদুস সালাম আজাদ, হাবিব উন নবী খান সোহেল, মীর সরফত আলী সপু, শিরিন সুলতানা, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, হাবিবুর রশীদ হাবিব, রফিকুল ইসলাম মাহতাব, হাফেজ আবদুল মালেক, শাহ মো. নেসারুল হক, এম এ মালেক প্রমুখ নিজ সংগঠনের পক্ষে জিয়ার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

 

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments