শুক্রবার, অক্টোবর 22, 2021
শুক্রবার, অক্টোবর 22, 2021
শুক্রবার, অক্টোবর 22, 2021
spot_img
Homeজেলাকুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত

কুড়িগ্রামে ধরলা নদীর পানি অপরিবর্তিত থাকলেও ব্রহ্মপুত্র পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছি, যাত্রাপুর ইউনিয়ন, উলিপুর উপজেলার, বেগমগঞ্জ, হাতিয়া ও সাহেবের আলগা ইউনিয়ন, চিলমারী উপজেলার রানীগঞ্জ, অষ্টমীর চর ও রমনা ইউনিয়ন, রৌমারী উপজেলার, কোদালকাটি, বল্লবের খাস ও দাতভাঙ্গা ইউনিয়ন ও রাজিবপুর উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়ের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। নিম্নাঞ্চলের রাস্তা-ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার অববাহিকার চর ও দ্বীপচর গুলোতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ। রোপা আমন ক্ষেত বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকায় তা নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। জেলায় নতুন করে আরো সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন পানিতে তলিয়ে গেছে। এ অবস্থায় বিপাকে পড়েছে কৃষকরা। বন্যার পানি দ্রুত নেমে না গেলে আমনের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নের কৃষক মোদাচ্ছের আলী জানান, গত চার দিন ধরে তার সাত একর জমির রোপা আমন বন্যার পানিতে তলিয়ে আছে। কয়েকদিন আগে জমিতে সার প্রয়োগ করেছি। এ অবস্থায় তার রোপা আমন ক্ষেত পানির নিচেই পচন ধরেছে।

যাত্রাপুর ইউনিয়নের কৃষক আফজাল হোসেন জানান, এবারের বন্যার ক্ষতি সে পুষিয়ে নিতে পারবে না। হাতের সব টাকা পয়সা খরচ করে আবাদ করেছে। ধান ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেলে তাকে পথে বসতে হবে।

সদর উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমির হোসেন জানান, তার ইউনিয়নটি ব্রহ্মপুত্রের অববাহিকায় হওয়ায় এই ইউনিয়নের প্রায় ৫০ ভাগ জমির ফসল বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। ২০ ভাগ ঘর-বাড়িতে পানি উঠেছে। বন্যার পানি দ্রুত নেমে না গেলে বিপদে দিন কাটাতে হবে এ ইউনিয়নের মানুষের।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক প্রতীপ কুমার মণ্ডল জানান, তিন থেকে চার দিন পর্যন্ত বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকা আমন ক্ষেত থেকে দ্রুত পানি নেমে গেলে আমন ক্ষেতের খুব বেশি ক্ষতি হবে না। তবে আমরা প্রতিবছরই কৃষকদের বন্যা সহিষ্ণু ধান চাষ করার পরামর্শ দিয়ে থাকি।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে ২২ সেন্টিমিটার ও নুনখাওয়া পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীর সামান্য নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে ধরলা নদীর পানি অপরিবর্তিত রয়েছে।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments