বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী 20, 2022
বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী 20, 2022
বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী 20, 2022
spot_img
Homeজেলাঅবশেষে লবণ আমদানি উন্মুক্ত হচ্ছে, চাষীদের মাথায় হাত

অবশেষে লবণ আমদানি উন্মুক্ত হচ্ছে, চাষীদের মাথায় হাত

কক্সবাজারের লাখো লবণ চাষী ও লবণ সংশ্লিষ্ট প্রায় ১৫ লাখ জনগোষ্ঠীর দাবী উপক্ষো করে সরকার লবণ আমদানি উন্মুক্ত করেছে। দেশে চাহিদার অতিরিক্ত ৪ লাখ টন লবণ আমদানির সিদ্ধান্তে কক্সবাজারের লবণ চাষীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত দেশের একমাত্র স্বয়ং সম্পূর্ণ শিল্পকে ধ্বংসের পাঁয়তারা বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের বিক্ষুব্ধ লবণ চাষি ও সচেতন মহল। সূত্র জানায়, দেশে চাহিদার অতিরিক্ত উৎপাদন হলেও লবণ আমদানি খুলে দিচ্ছে সরকার। শুধু তাই নয় লবণ চাষী মারার পথ নিষ্কণ্ঠক করতে সরকার লবণ আমদানি নিষিদ্ধ সংক্রান্ত আমদানিনীতি আদেশ ২০১-১৫ এর ২৬ (৫৮) অনুচ্ছেদ স্থগিত করা হয়েছে। ফলে এখন থেকে লবণ মিল মালিকেরা কাঁচা লবণ আমদানি ঋণপত্র খুলতে পারবেন। তবে আমদানির ক্ষেত্রে কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। লবণ আমদানির সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। লবণ আমদানিতে ঋণপত্র খোলার গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সরকার। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি লবণ মিল মালিককে ১০ হাজার টন পর্যন্ত কাঁচা লবণ আমদানির সুযোগ দেয়া হচ্ছে। সরকারের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লবণ আমদানির ঋণপত্র খুলতে সময় বেধে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঋণপত্র প্রতিষ্ঠার ৩০ দিনের মধ্যে লবণ জাহাজীকরণের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজারের লবণ চাষি ও মিল মালিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আর মাত্র দুইমাস পর অক্টোবর থেকে শুরু হবে লবণ উৎপাদন মৌসুম। এ সময়ে লবণের প্রয়োজন তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ মেট্রিক টন। নতুন মৌসুম শুরু হওয়ার সময়েও উদ্ধৃত্ত থাকবে ৪ লাখ মেট্রিক টন লবণ। এরপরেও নীতিমালা উপেক্ষা করে ২ লাখ মেট্রিক টন লবণ বিদেশ থেকে আমদানী করতে চক্রান্ত শুরু হয়েছে। এ চক্রান্ত সফল হলে ৫৫ হাজার লবণ চাষীসহ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লবণ শিল্পে নিয়োজিত সারাদেশের ২০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হবে। এরই প্রেক্ষিতে ৫টি সংগঠন যথাক্রমে বাংলাদেশ লবণ চাষী সমিতি, চট্রগ্রাম কার্গোবোট মালিক সমিতি, নারায়ণগঞ্জ আড়তদার সমিতি, জল পরিবহন সমিতি ও লবণ শিল্প বাঁচাও আন্দোলন সংগ্রাম পরিষদ ঐক্যবদ্ধভাবে লবণ আমদানীর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে। বিসিকের তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, গত মৌসুমে লবণ উৎপাদন হয়েছিল প্রায় ১৮ লাখ মেট্রিক টন। এর আগের মৌসুমের উদ্ধৃত্ত ছিল ২ লাখ মেট্রিক টন লবণ। দেশে একবছরে লবণের চাহিদা রয়েছে ৭৬ লাখ মেট্রিক টন। বিগত মৌসুম থেকে অগাষ্টের শেষ পর্যায়ে পর্যন্ত চাহিদা পূরণ করে লবণ মজুদ রয়েছে সাড়ে ৭ লাখ মেট্রিক টন। দুইমাস পর নতুন মৌসুম শুরু হওয়া পর্যন্ত মজুদকৃত লবণ থেকে ব্যবহারের পরও অতিরিক্ত মজুদ থাকবে ৪ লাখ মেট্রিক টন। এরপরেও একটি স্বার্থান্বেষী মহল কতিপয় আমলাদের ব্যবহার করে ২লাখ মেট্রিক টন লবণ বিদেশ থেকে আমদানীর পাঁয়তারা করছে। আত্মঘাতিমূলক এই সিদ্ধান্ত বাস্তবে রুপ পেলে লবণ শিল্পের সাথে জড়িত সারাদেশের ২০ লাখ মানুষ বেকার হয়ে পথে বসবে। ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ৫৫ হাজার চাষী লবণ চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। তাই লবণ আমদানীর মতো আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত বাতিল করতে প্রধানমন্ত্রী, শিল্পমন্ত্রী ও বাণিজ্য মন্ত্রীর জরুরী হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments