বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী 20, 2022
বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী 20, 2022
বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী 20, 2022
spot_img
Homeজেলাফেনীতে ধর্ষিতা-মা মেয়ের কান্না থামছেনা-তবে কেউ শুনছেনা

ফেনীতে ধর্ষিতা-মা মেয়ের কান্না থামছেনা-তবে কেউ শুনছেনা

কিছুতেই থামছে না ধর্ষিতার কান্না। তাদের কান্নায় আশা বাতাস ভারী হয়ে উঠলেও মন গলছেনা পুলিশ ও সিন্ডিকেট নেতাদের। থানায় বসে আসামী না ধরতে দেন-দরবার করছে ভাইস চেয়ারম্যান মামুন ও তার সহযোগীরা। দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের কোরাইশমুন্সী বাজারসংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে বিধবাকে গণধর্ষণ, মা-মেয়ের নগ্ন ভিডিও চিত্র ধারণ, সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায়সহ আওয়ামী লীগ-যুবলীগের সেই বর্বর ঘটনার ৩ দিনেও আর কোনো আসামি গ্রেফতার হয়নি। এ নিয়ে জনমনে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারদলীয় নেতাদের যোগসাজশে পুলিশ ঘটনা ধামাচাপা দিতে নানা কূটকৌশল করছে। নির্যাতিতা মা-মেয়ে হুমকির মুখে বাসা ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছেন। এলাকাবাসী, পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার আদালতে সেই বর্বরতার চিত্র আদালতে তুলে ধরে নির্যাতিতা বিধবার কিশোরী মেয়ে। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজী আরাফাত উদ্দিনের আদালতে মাকে পাশবিক নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ে। এ সময় আইনজীবী ও উপস্থিত লোকজন চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। আদালতে দেয়া জবানবন্দী সম্পর্কে কিশোরী মেয়ে জানায়, তার চোখের সামনে আওয়ামী লীগ নেতা মশিউর রহমান মিন্টুর উপস্থিতিতে মাকে বিবস্ত্র অবস্থায় ভিডিও করতে সে দেখেছে। এ সময় মা-মেয়ের আকুতি মিন্টু ও অন্যদের পাষাণ হৃদয় তো গলেনি, বরং তারা নারকীয় উন্মত্তায় মেতে থাকে। মিন্টুকে আটকের পর ছেড়ে দেয়ার ঘটনাও সে আদালতকে অবহিত করে। সে আরো জানায়, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জয়নাল আবদীন মামুনের ছোটভাই যুবলীগ নেতা সাইফ উদ্দিন লিটু মঙ্গলবার ভোরে ঘুমন্ত অবস্থায় বাসায় এসে তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। তাদের পাশের বাড়িতে যেখানে তার মাকে রাখা হয়েছে সেখানে তাকে নিয়ে মায়ের সামনে শ্লীলতাহানি করা হয়। এ দিকে ঘটনার দুই দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। নির্যাতিতা বিধবা অভিযোগ করেন, সরকারদলীয় নেতাদের যোগসাজশে পুলিশ ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে নানা কূটকৌশল করছে। যে কারণে ঘটনার অন্যতম হোতা মিন্টুকে আটকের পর তাকে ছেড়ে দিয়ে বাদির অমতে মামলার সাক্ষী করা হয়েছে। তার অভিযোগ একইভাবে ঘটনার মূলহোতা লিটু আওয়ামী লীগ নেতা মামুনের ভাই হওয়ায় তাকে বাঁচাতে সরকারদলীয় নেতারা উঠেপড়ে লেগেছে। এতে করে পুলিশ নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় রয়েছে বলে তার অভিযোগ। অপর দিকে পুলিশ সুপার পরিতোষ ঘোষ বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতারের জন্য দাগনভূঞা থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন। এ দিকে পুলিশের বিরুদ্ধে বাদির বিভিন্ন অভিযোগ অস্বীকার করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দাগনভূঞা থানার ওসি মো: আনোয়ারুল আজিম বলেন, আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অন্য দিকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নির্যাতিতার বড় মেয়ের খোঁজ মেলেনি। লিটুর বিরুদ্ধে এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, মাদক, ছিনতাই, ইয়াবা বিক্রিসহ নানান অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবদীন মামুনের নানা অপকর্ম-অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে টেন্ডার, চাঁদাবাজী, জবর দখল অব্যাহত রেখেছে। আদালতের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কোরাইশমুন্সী দীঘি দখল করে মামুন প্লাজা নামে মার্কেট নির্মাণের পর থেকে আলোচনায় আসে ভাইস চেয়ারম্যান মামুন।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments