রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
spot_img
Homeজাতীয়সব দলের অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই: ড. ইউনূস

সব দলের অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই: ড. ইউনূস

অনুষ্ঠান মূলত নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. ইউনূসকে নিয়ে। তাকে দেওয়া হবে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা। তবে এই অনুষ্ঠান হয়ে ওঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সমালোচনায়।

অনুষ্ঠানের আলোচকরা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হয়রানি করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মানসিক অসুস্থ বলে আখ্যা দেন। এক ধাপ এগিয়ে আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন শেখ হাসিনার মানসিক সুস্থতা কামনা করে সবাইকে দোয়া করার জন্য আহ্বান জানান।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বাংলাদেশ গণপরিষদ আয়োজিত নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এমনই চিত্র দেখা গেছে।

অনুষ্ঠানে গণফোরাম সভাপতি ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘যারা সম্মানিত ব্যক্তিদের অসম্মান করে তাদের চিহ্নিত করে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। আল্লাহর কাছে দোয়া করি, যারা মানসিকভাবে অসুস্থ তারা যেন সুস্থ হয়ে ওঠেন।’

তিনি বলেন, ‘ড. ইউনূসের গর্বে আমরা গর্বিত। তিনি সবচেয়ে বড় পুরস্কার পেয়েছেন। সরকার কি করছে, না করছে তা ভেবে লাভ নেই। আমাদের প্রার্থনা করতে হবে আল্লাহ যেন সরকার পরিচালনাকারীদের সুস্থ করে দেন।’

ভিত্তিহীন হয়রানি বন্ধ না হলে, তা কীভাব বন্ধ করতে হয় আমরা তা জানি বলেও জানান ড. কামাল হোসেন।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে আমি যথেষ্ট সম্মান করি। তিনি অনেক কিছু হারিয়েছেন। এর ওপর ১৬ কোটি মানুষের চাপ সহ্য করছেন। তাই হয়তো উনার মানসিক অবস্থা ভালো নেই।’

তিনি বলেন, ‘নোবেল বিজয়ের পর ড. ইউনূস যখন দেশে এসেছিলেন তখন যদি শেখ মুজিব জীবিত থাকতেন, তাহলে তাকে তিনি বুকে জড়িয়ে ধরতেন। বলতেন- শাবাশ বেটা, তোর জন্য আমি আজ গর্বিত। যদিও শেখ মুজিবের কন্যা তাকে সম্মান দেননি।’

এই বীর মুক্তিযোদ্ধা আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত আমাদের অনেক সাহায্য করেছে, তা আমরা অস্বীকার করছি না। কিন্তু এই ঋণ শোধ করতে হলে আমাদের আর কত রক্ত দিতে হবে?’

ঢাকাস্থ ভারতীয় দূতাবাসের সামনের রাস্তা ফেলানী সড়ক করার দাবি জানান জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘বিশ্বের সব ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের প্রধানরা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সম্মান জানিয়েছেন। যদিও আমরা তাকে সেই সম্মান দিতে পারেনি। ইউনূস যখন আদালতে জামিন প্রার্থনা করেন, তখন এই দেশের সরকার পাশের দেশের নোবেল বিজয়ীকে এনে সংবর্ধনা দেয়। এটা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য লজ্জাস্কর।’

তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যদি হয় সুষম সম্পদ বণ্টন, নারী উন্নয়ন ও অসাম্প্রদায়িকতা তাহলে ড. ইউনূস সেই চেতনাই বাস্তবায়ন করেছে। যারা ড. ইউনূসকে অসম্মান করে তারা মুক্তিযুদ্ধের শক্র। আমাদের উচিত হবে তাদের রুখে দেওয়া।’

বিএনপির সহ-সভাপতি শমসের মুবিন চৌধুরী ড. ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘সারা বিশ্ব আপনাকে সম্মান করেছে, স্বীকৃতি দিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ আপনাকে ভালোবাসা দিয়েছে। সুতরাং আপনার ভয় পাওয়ার কিছু নেই। জনগণ আপনার সঙ্গে আছে। আপনি আমাদের অহংকার।’

যাকে ঘিরে এই অনুষ্ঠান সেই মধ্যমণি ড. ইউনূসের বক্তৃতায় উঠে আসে আগামী জাতীয় নির্বাচনের অনিশ্চয়তা। তবে আশাবাদী এই মানুষ সব দলের অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণভাবে আগামী জাতীয় নির্বাচন দাবি করেন।

নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘কারও ইচ্ছার ওপর আমরা আমাদের ভবিষ্যত ছেড়ে দিতে পারি না। আমরা কোনো বিভক্তি বা উত্তাপ চাই না। কারও অনৈক্য বা মতবাদের কারণে ১৬ কোটি মানুষের ভাগ্যকে জ্বলাঞ্জলি দিতে পারি না। কারও ইচ্ছা বা অনৈক্য কিংবা অবহেলার কারণে জাতি যেন গা ভাসিয়ে না দেয়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ক্রমাগত সংকটের ভিতরে হারিয়ে যাচ্ছি। আমরা শান্তি চাই। বিভক্তি চাই না। উত্তাপ বা বিস্ফোরণ চাই না। পুরনো সমাজকে নাড়া দিয়ে নতুন উদ্যোমে চলতে চাই। বাহিরে বের হলে সবাই বলে নির্বাচনকে কী হবে? এটা কোনো ধরনের কথা!’

ড. ইউনূস বলেন, ‘আমরা নির্বাচন চাই, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন এবং সেই নির্বাচন হতে হবে সব দলের অংশগ্রহণে। দেশের মানুষ চাইলে এটা কেউ না দিয়ে যেতে পারবে না। জোর করে দাবি আদায় করতে হবে।’

মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতির ভেতরে যে ঐক্য তৈরি হয়েছিল, তা আজ বিভক্তিতে আমাদেরই সর্বনাশ করছে বলেও মন্তব্য করেন একমাত্র নোবেল বিজয়ী বাংলাদেশি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

মুক্তিযোদ্ধা গণপরিষদের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- মুক্তিযোদ্ধা আইন উদ্দিন বীর প্রতীক, ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালাম, সংগঠনের মহাসচিব সাদেক খান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি আসতে পারেননি।

 

 


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments