রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
spot_img
Homeজাতীয়শ্রমিক অসন্তোষে মালিক-সরকারই দায়ী: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস

শ্রমিক অসন্তোষে মালিক-সরকারই দায়ী: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস

বাংলাদেশে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের জন্য গার্মেন্ট মালিকপক্ষ ও সরকারকেই দায়ী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত প্রভাবশালী দৈনিক `দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস` এই অভিযোগ করেছে। দৈনিকটির মতে, মানবেতর জীবন যাপন করা নিরীহ শ্রমিকরা নয়, বরং  অতিমুনাফালোভী মালিকদের ক্রমাগত নিপীড়ন আর সরকারের পেটোয়া বাহিনীর দলন-পীড়নই এই অবস্থার জন্য দায়ী। পত্রিকার চলতি সংখ্যায় (২৫ সেপ্টেম্বর) এর সম্পাদকীয় বোর্ড ‘ফেড আপ ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামে এক সম্পাদকীয়তে এ অভিযোগ করেছে।

পত্রিকাটি শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে ন্যূনতম মজুরি ও শ্রমিক ইউনিয়ন গঠনের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

সম্পাদকীয়তে বলা হয়, হাজার হাজার পোশাক শ্রমিক তাদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। অথচ ২০১০ সালে সর্বশেষ বাংলাদেশ সরকার তাদের মজুরি বৃদ্ধি করেছিল। কিন্তু বাংলাদেশে বিদ্যমান মুদ্রাস্ফীতির সময়  দাবি না মেনে সরকার তাদের ওপর বরং লাঠিপেটা ও রাবার বুলেট ছুড়ে জবাব দিচ্ছে।

সম্পাদকীয়তে বলা  হয়,  সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, প্রধানমন্ত্রীসহ বাংলাদেশের নেতারা এ ব্যাপারে একবারেই অন্ধের মতো আচরণ করছেন। সারা পৃথিবী লক্ষ করছে, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি শ্রদ্ধা না জানিয়ে বরং উল্টো আচরণ করছেন তারা। ২০১০ সালের পর শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩৮ ডলারে উন্নীত করেনি সরকার। অথচ মুদ্রাস্ফীতি বেড়েই চলেছে।

সম্পাদকীয়তে বলা হয়, পোশাক শ্রমিকরা ন্যূনতম মজুরি  মাসে ১০০ ডলার করার দাবি তুলেছে। আর গার্মেন্টস মালিকরা মাত্র ৪৬ ডলার দিতে রাজি। অথচ তারা চাইলেই খুব সহজে তা বাড়িয়ে দিতে পারেন।

বোর্ড উল্লেখ করে, ইউরোপীয় ও মার্কিনি পোশাক বিক্রেতারা উচ্চ মজুরির কারণে চীনের বদলে বাংলাদেশের প্রতি ঝুঁকেছে। গতবছর শুধু পোশাক খাতেই ১৯ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। আর এ আয় গত দুবছরের রফতানি আয়ের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি।

নিউ ইয়র্ক টাইমস সম্পাদকীয়তে জানায়,  সাড়ে ১৫ কোটি জনসংখ্যার দেশ বাংলাদেশে শ্রমমূল্য অত্যন্ত কম। সে কারণে দেশটির গ্রামের গরিব ও অদক্ষ মানুষেরা খুব সহজেই পোশাক কারখানায় কাজ পেয়ে যান। কিন্তু, সরকার ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির বদলে তাদের হতাশ করছে।

টাইমস জানায়, এদিকে, বাংলাদেশের মন্ত্রিসভা শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি ও তাদের দাবি-দাওয়া আদায়ে শ্রমিকদের ইউনিয়ন গঠন করার পক্ষে মত দিয়েছে। কিন্তু, শ্রমিকদের পক্ষ থেকে দাবি-দাওয়া উত্থাপনের কোনো সুযোগ নেই। বরং সম্প্রতি অনুমোদিত শ্রম আইনেও শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির বিষয়ে তেমন ইতিবাচক কিছু নেই।

শ্রম মান উন্নয়নে কোনো ধরনের সমঝোতা না থাকলেও শ্রমিক নিরাপত্তাহীনতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। গত এপ্রিল মাসে দুর্বল ভবন কাঠামোর জন্য সহস্রাধিক শ্রমিকের মৃত্যু ও এর আগে আগুনে পুড়ে শতাধিক পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু সেটাই প্রমাণ করে।

পোশাক শ্রমিকদের রাজপথে নেমে আসাটা কোনো আশ্চর্যের বিষয় নয়। প্রায় দুই লাখ মানুষ প্রতিবাদে যোগ দিয়েছেন। এদের মধ্যে কেউ সহিংস আচরণও করছেন। কোনো কোনো পোশাক কারখানায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে শতাধিক পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অনেকে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন।

আমরা বলতে চাই, সব পক্ষকেই সহিংস আচরণ থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে এ জন্য সবার আগে পুলিশের কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেটে ছোড়া বন্ধ করতে হবে। এরপর মুদ্রাস্ফীতি অনুযায়ী শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি করতে হবে। এ ছাড়া শ্রমিকদের ইউনিয়ন করার অধিকার দিতে হবে, সমস্যা সমাধানের জন্য।

কারণ, বাংলাদেশের পোশাক কারখানায় কর্মপরিবেশ উন্নয়ন ও শ্রমিক নিরাপত্তায় পাশ্চাত্যের দেশগুলোর পোশাক ক্রেতারা মনোযোগী হয়েছে। তারা এ জন্য সামনের দিনগুলোতে অর্থ বিনিয়োগ করবে।  আমরা এটাকে সমর্থন করি।

তবে আরো বলা দরকার যে, সুইডেনের এইচ অ্যান্ড এম কোম্পানি শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। অথচ বাংলাদেশ সেটি না করে শান্তি বজায় রাখার আশা করছে। তাতো হতে পারে না!


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments