শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
spot_img
Homeজেলা কক্সবাজারে বিদ্যুৎ নেই : শিক্ষার্থীদের পড়াশুনা লাটে উঠেছে, গ্রামাঞ্চলে ব্যবসা বাণিজ্য...

কক্সবাজারে বিদ্যুৎ নেই : শিক্ষার্থীদের পড়াশুনা লাটে উঠেছে, গ্রামাঞ্চলে ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধের উপক্রম

কক্সবাজার জেলায় বিদুৎ সরবরাহ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বিদ্যুৎ ঘাটতির পরিমান দাড়িয়েছে ৭০ ভাগ। এতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন এলাকায় কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও গ্রামাঞ্চলে পল্লী বিদ্যুৎ নির্ভর ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। সেইসাথে বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশুনাও লাটে উঠেছে। পল্লী বিদ্যুৎ ২৪ ঘন্টার মধ্যে ২০ ঘন্টা লোডশেডিং করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে গ্রামে সর্বেেত্র নেমে এসেছে স্থবিরতা। একই সাথে ভাদ্রের খর তাপে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ। গ্রামের মানুষ বলছে, তারা দিনের মধ্যে ১ঘন্টার জন্যও বিদ্যুৎ পাননা। আর রাতের বেলা বিদুৎ থাকেই না।
জেলায় প্রতিদিন বিদ্যুৎ ঘাটতি ৩০ মেগাওয়াটে দাড়িয়েছে। যার ফলে লোডশেডিং এর তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিার্থীরা চরম বিপাকে পড়েছে।

কক্সবাজার বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের জিএম জানান, পিক আওয়ারে ৫২ মেঘাওয়াট ও অপ-পিক আওয়ারে ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা জেলাব্যাপী রয়েছে। এই চাহিদার বিপরীতে পিক আওয়ারে সর্বোচ্চ ১৮ মেগাওয়াট ও অপ-পিক আওয়ারে সর্বোচ্চ ১৫ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীড থেকে পাওয়া যাচ্ছে। ভিআইপি সংযোগে সরবরাহ করে যা থাকছে তাই  গ্রাহক পর্যায়ে সরবরাহ করা হচ্ছে। তাদের হিসাব মতে জাতীয় গ্রীড থেকে পাওয়া অর্ধেক বিদ্যুৎ বিতরণ করছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপ।
এ দিকে জেলাব্যাপী পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা ৮৪ হাজারে পৌছেছে। ওই গ্রাহকের মধ্যে রয়েছে প্রায় ৩ শতাধিক ছোট শিল্প কারখানা। এ বিশাল গ্রাহকের জন্য বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে ৭/৮ মেটাওয়াট। ওই বিদ্যুৎ থেকে প্রায় ২ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ চলে যায় টমটম গাড়ীতে। যার ফলে গ্রাহক পাচ্ছে মাত্র ৫ মেঘাওয়াট।
দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর গ্রাহকরা জানাচ্ছেন, গ্রাম পর্যায়ে বিদ্যুৎ এখন সোনার হরিণ। মোবাইলে চার্জ দেওয়াও এখন দুঃস্বাধ্য হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ ব্যবহার না করেই এখন বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। আগামি এপ্রিলে এইসএসসি পরীা শুরু হবে। বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে পরিার্থীরা যথাযত প্রস্তুতি গ্রহন করতে পারছেন না বলেও জানিয়েছে সেখানকার শিার্থীরা। বিদ্যুৎ না থাকায় এ এলাকার তিনটি বরফ কল এখন বন্ধ হয়ে গেছে। একই সাথে চাউল কল, আরো কয়েকটি ছোট কারখানার কাজ মুখ থুবড়ে পড়েছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে গ্রামীন অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব পড়বে।

মহেশখালী হোয়ানকের এক বরফ কলের মালিক জানান, বিদ্যুতের কারণে দিনে ৩/৪ ঘন্টার বেশী বরফ কল চালানো যায় না। শহরে বিদ্যুৎ নিয়ে অনেকটা স্বস্তি থাকলেও গ্রামে ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে। এখন ব্যবসায়ীদের চাহিদামাফিক বরফ সরবরাহ করা দুঃস্কর হয়ে পড়েছে।
চকরিয়ার বদরখালী বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, এই এলাকাটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র হওয়ায় প্রায় অর্ধশত ছোট শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে যার অধিকাংশ শিল্প প্রতিষ্ঠান এখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নেমে এসেছে স্থবিরতা।

এছাড়াও শহরতলীর পার্শ্ববর্তী গ্রামাঞ্চলের সাধারণ গ্রাহকরা জানিয়েছেন, ভাদ্রের খর তাপে বিদ্যুৎ না থাকায় আমরা অতিষ্ট হয়ে উঠেছি। হঠাৎ এভাবে বিদ্যুতের বিপর্যয় কেন হল আমরা বুঝতে পারছি না। বিদ্যুৎ যা সরবরাহ করা হয় তা এক নাগাড়ে দিলে মানুষের কাজে আসত। বিদ্যুৎ একবার আসলে ১০ মিনিটও থাকে না। গ্রামে বিকাল বেলায় মানুষের বিদ্যুতের প্রয়োজন হলেও তা পাচ্ছে না।

জেলা পল্লী বিদ্যুতের জি এম প্রকৌশলী সৈয়দ কামরুল হাসান জানিয়েছেন, জাতীয় গ্রীড থেকে যা পাওয়া যাচ্ছে তা যথাযত ভাবে বিতরণ করা হচ্ছে। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ নগন্য হওয়ায় লোডশেডিং ভয়াবহ আকাওে বেড়ে চলেছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments